সম্পাদকীয়

ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে আফ্রিকার নতুন মুক্তি সূর্য

Captain Ibrahim Traore is the new liberation sun of Africa

রাজাগোপাল ধর চক্রবর্ত্তী: পশ্চিম আফ্রিকায় মালি, নাইজার, বেনিন আইভরি কোস্ট, ঘানা ও টোগো দেশ দিয়ে ঘেরা সম্পূর্ণ স্থলবেষ্টিত দেশ বুরকিনা ফাসো। পশ্চিম আফ্রিকার মানদণ্ডেও বুরকিনা ফাসো একটি দরিদ্র দেশ। জনসংখ্যার নব্বই শতাংশ মানুষের বিস্তীর্ণ সাভানা তৃণভূমিতে পশুপালন করেই দিন কাটে, চাষ বাস সামান্যই। বাজার ছোট, তাই দেশে শিল্পের বিকাশ হয়নি। দেশে রয়েছে প্রচুর ম্যাঙ্গানিজ আর বেশ কিছু সোনার খনি। টেকসই উন্নয়ন নিরিখে এই সব খনিজ পদার্থ উত্তোলনের কোনও পরিকাঠামো তৈরি হয়নি।

মানুষ পার্শ্ববর্তী দেশ, বিশেষত আইভরি কোস্ট এবং ঘানায় ছোটে চাকুরির সন্ধানে। আইভরি কোস্টে নিত্য নতুন অস্থিরতায় দ্বার প্রায়শই রুদ্ধ, হাঙ্গামায় জীবন অতিষ্ট। ২০২৩-২৪ সালের মানব উন্নয়ন প্রতিবেদনে বুরকিনা ফাসোকে নিম্ন মানব উন্নয়ন হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। মানব উন্নয়ন সূচকে ১৯৩টি দেশের মধ্যে তার স্থান ১৮৫তম। বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচকে জনসংখ্যার ৬৪.৫ শতাংশ বহুমাত্রিক দরিদ্র। এমনই এক আশা-ভরসাহীন দেশে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে ৩৭ বছর বয়সী সামরিক অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি হওয়া ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে। বর্তমানে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ প্রেসিডেন্ট। আফ্রিকায় যেখানে দেশ শাসনে রয়েছে বৃদ্ধতন্ত্র, সেখানে এই তরতাজা যুবক আফ্রিকার নতুন মুক্তি সূর্য হিসাবে আবির্ভূত হচ্ছেন।

বুরকিনা ফাসো যার অর্থ ‘অদম্য মানুষের ভূমি’। একটি প্রাক্তন ফরাসি উপনিবেশ। ১৯৬০ সালে আপার ভোল্টা হিসাবে স্বাধীনতা পায়, ১৯৮৪ সাল থেকেই বর্তমান নামে পরিচিতি। বারবার জিহাদি বিদ্রোহে ক্ষত-বিক্ষত বুরকিনা ফাসো। ইসলামপন্থী জিহাদি হামলায় ২০২২ সালেই মারা গেছে দশ হাজার মানুষ, কুড়ি লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত। জিহাদিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতেই সেখানে সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থান ঘটে। ৩৭ বছর বয়সী ক্যারিশ্ম্যাটিক ব্যক্তিত্ব, ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তার পূর্বসূরি লেফটেন্যান্ট-কর্নেল দামিবাকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতা দখল করেন। লেফটেন্যান্ট-কর্নেল দামিবাও রাষ্ট্রপতি মার্ক কাবোরকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন এই জেহাদ থামাতে। কিন্তু পারেননি। এই জেহাদি গোষ্ঠীগুলিকে থামাতেই ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরের যাত্রা শুরু।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সঙ্গে বুরকিনা ফাসোয় গণতান্ত্রিক শাসন পুনরুদ্ধার, আর্থিক ও সামাজিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি রাখেন। এই সামান্য সময়ে তিনি নিজেকে আফ্রিকার এক প্রথম সারির নেতা হিসাবে গড়ে তুলেছেন। পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ ও নয়া-উপনিবেশবাদের কবল থেকে মুক্ত মুক্ত করতে তার ভাবনা চিন্তা আফ্রিকার ঘরে ঘরে। যখন অনেক আফ্রিকান পশ্চিমের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলছে এবং কেন এখনও সম্পদসমৃদ্ধ মহাদেশে এত দারিদ্র্য রয়েছে, তখন ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে নতুন স্বপ্নের প্রতীক হিসাবে উঠে এসেছেন। নবীন প্রজন্ম তার মধ্যে খুঁজে পাচ্ছে চে গুয়েভারাকে। ক্ষমতায় আরোহণের পর থেকে তার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। গত বছর ৭ জানুয়ারি ঘানায় প্রেসিডেন্ট জন মাহামার অভিষেক অনুষ্ঠানে আফ্রিকার ২১ জন রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে সবচেয়ে জোরালো করতালি জানান দিয়েছিল ত্রাওরে কতটা জনপ্রিয়।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও ফ্রান্স বুরকিনা ফাসোর নিরাপত্তা দেখভাল করত, কোনও কাজের কাজ হয়নি। জেহাদিরা ঢুকে পড়তো অনায়াসেই। স্বাধীনতার আগে ও পরে বহু যুগের পশ্চিমা, বিশেষ করে ফরাসি শোষণ ও নির্ভরশীলতা আফ্রিকাকে পিছিয়ে রেখেছে, ত্রাওরের এই যুক্তি আফ্রিকায় বেশ গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। ক্ষমতায় এসেই ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে ২০২৩ সালের ফ্রান্সের সঙ্গে সামরিক চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেন। এক মাসের মধ্যে দেশ থেকে ফরাসি বিশেষ বাহিনী প্রত্যাহার করা হয়। ত্রাওরের দেখাদেখি নাইজার, মালি ও আইভরি কোস্ট ফরাসি সেনা সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। আফ্রিকার অধিকাংশ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে কেবল জিবুতিতে ১,৫০০ আর গ্যাবনে ৩৫০ জন সেনা ফরাসি ধ্বজা ধরে আছেন।

ফরাসি প্রভাবের বিকল্পের আকাঙ্ক্ষা, ক্রমবর্ধমান ফরাসি বিরোধী মনোভাব এবং সাহেল অঞ্চলে জিহাদি বিদ্রোহের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রাশিয়াকে আরও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসাবে উপলব্ধ হওয়ায় বুরকিনা ফাসো রাশিয়ার সঙ্গে মৈত্রীর পথ বেছে নেয়। রাশিয়া একই সঙ্গে বুরকিনা ফাসোয় সামরিক ও খনিজ সম্পদ উত্তোলনে প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রস্তাব করে, যা বুরকিনা ফাসোর যথেষ্ট সদর্থক লাগে। রাশিয়ার সঙ্গে স্বর্ণ ও ইউরেনিয়াম খনিজ উত্তোলন সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। রাশিয়ার ওয়াগনার গ্রুপের সেনাবাহিনী আফ্রিকা কর্পস নাম নিয়ে এখানে এসেছে, সঙ্গে রয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র আর আফ্রিকা অভিজ্ঞ সামরিক উপদেষ্টা। নয়া-উপনিবেশবাদ ও পশ্চিমা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে রাশিয়ার আখ্যান বুরকিনা ফাসোর গ্রহণ যোগ্য লাগছে । আফ্রিকার অনেক নেতাই এই চিন্তা ভাবনার সঙ্গে একাত্ম হয়ে উঠছেন।

অর্থনৈতিক একীকরণ এবং সহযোগিতার লক্ষ্যে পশ্চিম আফ্রিকার ১৫টি দেশ নিয়ে ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর অর্থনৈতিক সম্প্রদায় (ইকোওয়াস)। ইকোওয়াসের মধ্যে পশ্চিমী ধ্যান ধারণা লক্ষিত হওয়ায়, ত্রাওরের নেতৃত্বাধীন বুরকিনা ফাসো ইকোওয়াস থেকে সরে এসেছে। পরিবর্তে মালি এবং নাইজারের সঙ্গে সাহেল রাষ্ট্রের জোট গঠন করেছে। এইসব দেশে মিলিটারি শাসন চলছে। আফ্রোবারোমিটারের রিপোর্ট জানান দিচ্ছে যে বুরকিনা ফাসোর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ বিশ্বাস করে যে নেতারা ক্ষমতার অপব্যবহার করলে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ করা উচিত। একইভাবে যখন ২০১২ সালে ২৪ শতাংশ মানুষ মনে করতো, এখন ৬৬ শতাংশ মানুষের কাছে সামরিক শাসন গ্রহণযোগ্য হচ্ছে। প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, আফ্রিকানরা কী ভাবছে সে সম্পর্কে উচ্চমানের তথ্যের বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় উৎস হচ্ছে এই আফ্রোবারোমিটার। ঘানায় সদর দফতর হলেও এই সংস্থার যাবতীয় নিয়ন্ত্রণকর্তা সুইডিশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা।

তবে ত্রাওরের জনপ্রিয়তা সামরিক শাসনের স্বীকৃতির বাইরে। তিনি আমূল সংস্কার শুরু করেছেন যা অনেক এখানকার অধিবাসী বা বুর্কিনাবের সঙ্গে অনুরণিত হয়। ত্রাওরে এসেই মন্ত্রী আমলার বেতন বৃদ্ধি রোধ করেছেন। খনিজ সম্পদের মালিকানা গ্রহণের প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে, ত্রাওরে দুটি সোনার খনি জাতীয়করণ করেছেন এবং ইউরোপে অপরিশোধিত সোনা রফতানি সম্পূর্ণ বন্ধ করেছেন। জাতীয় আয়ের ষোল শতাংশ ও রপ্তানির আশি শতাংশ আসে বুরকিনা ফাসোর খনিজ সম্পদ থেকে। ২০২৩ সালে, বুরকিনা ফাসো প্রায় ৫৭ টন স্বর্ণ উৎপাদন করে আফ্রিকার পঞ্চম বৃহত্তম সোনা উৎপাদক হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী স্বর্ণ উত্পাদনের এটি প্রায় দুই শতাংশ। অর্থনীতিতে এই খাতের অবদান বাড়াতে সরকার স্থানীয়ভাবে স্বর্ণ প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য একটি শোধনাগার নির্মাণ করছে। বার্ষিক ১৫০ টন পরিশোধন ক্ষমতাযুক্ত এই শোধনাগারে সোনা উত্পাদন শুরুর পথে। স্থানীয় কোম্পানি মারেনা গোল্ডের সঙ্গে অংশীদারিত্বে এই প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। শোধনাগারটি হবে দেশের প্রথম, দেবে কয়েক হাজার চাকরি।

উচ্ছ্বসিত রাষ্ট্রপতি ত্রাওরে বলেন, ‘আমরা আর বিদেশে আমাদের স্বর্ণ পরিশোধন করব না। এখন আমরা জানতে পারব যে আমাদের খনি থেকে বেরিয়ে আসা কাঁচা সোনার আসল মূল্য কী’। এর আগে দেশের সোনা যেত দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইজারল্যান্ড বা চিনের শোধনাগারগুলিতে। কত সোনা যে লোপাট হতো তার ইয়ত্তা নেই। প্রতিবেশী স্বর্ণ উত্পাদক দেশ মালি যে শীগ্রই বুরকিনা ফাসোর অনুসরণ করবে সন্দেহ নেই। তারাও স্বর্ণ শোধনাগার নির্মাণের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে একটি সমঝোতা করেছে। ত্রাওরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে আর্টিসানাল কটন প্রসেসিংয়ের জন্য জাতীয় সহায়তা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, একটি নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ এবং যথেষ্ট কৃষি বিনিয়োগ।

ত্রাওরের জনপ্রিয়তার সবচেয়ে বড় কারণ তিনি একমাত্র বিশ্ব নেতা যিনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্ব ব্যাঙ্কের আর্থিক সহায়তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর দৃঢ় প্রত্যয়, পশ্চিমাদের ঋণ ও শর্ত ছাড়াই দেশের উন্নয়ন হতে পারে। বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা হ্রাসের সময়ে, আফ্রিকাকে অবশ্যই স্বনির্ভরতা এবং তার সম্পদের নিয়ন্ত্রণের জন্য সংগ্রাম করতে হবে। বুরকিনা ফাসো প্রাকৃতিক সম্পদের আশীর্বাদপুষ্ট, যা সঠিকভাবে পরিচালিত হলে নাগরিকদের জীবনকে বদলে দিতে পারে। দেশটিতে রয়েছে স্বর্ণ ছাড়াও রয়েছে প্রচুর পরিমাণ দস্তা, তামা, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফেট এবং চুনাপাথর। হিরা, বক্সাইট, নিকেল এবং ভ্যানাডিয়ামের মজুদও রয়েছে যথেষ্ট কিন্তু এসবের বেশিরভাগই মূলত অব্যবহৃত। ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরের ভাবনা পাল্টাচ্ছে বুরকিনা ফাসোকে, ভাবাচ্ছে সমগ্র আফ্রিকাকে।

এগিয়ে চলছে বুরকিনা ফাসো। মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) (বাজার বিনিময় হারে) ১৯৯০ সালে ৩.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৩ সালে ১৮.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং একই সময়ে চরম দারিদ্র্য ৮৩ শতাংশ থেকে ২৭.৭ শতাংশ এ নেমে এসেছে। অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। ইনস্টিটিউট ফর সিকিউরিটি স্টাডিজের আফ্রিকান ফিউচারস অ্যান্ড ইনোভেশন টিমের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে বুরকিনা ফাসোর অর্থনীতি ২০২৫ থেকে ২০৪৩ সালের মধ্যে গড়ে ৮ শতাংশ হারে বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে ২০৪৩ সাল নাগাদ দারিদ্র্য সম্পূর্ণ নির্মূল সম্ভব। অবশ্যই একাজ সফল করতে নিরাপত্তা, জবাবদিহিতা, সরকারি খাতের দক্ষতা আনতে প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। তাত্ক্ষণিক অগ্রাধিকার হল সন্ত্রাসবাদকে মোকাবিলা করা, যার ফলে দেশের প্রায় চল্লিশ শতাংশ অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বৈধতা নিশ্চিত করতে দেশকে অবশ্যই সাংবিধানিক শাসনে রূপান্তর করতে হবে। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে।

আফ্রিকার রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন ক্যারিশ্ম্যাটিক ব্যক্তিত্বের আবির্ভাব এই প্রথম নয়। অনেক বিপ্লবী নেতা একইভাবে শুরু করলেও পরে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার কারণে পথ থেকে বিচ্যুত হন। ঘানায় ৩২ বছর বয়সী জেরি রলিংস ১৯৭৯ সালের শেষের দিকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে পরিশুদ্ধ করতে এক রক্তাক্ত বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আবির্ভূত হন। মানুষের ভালবাসায় তিনি ‘জুনিয়র জেসাস’ নামে বন্দিত ছিলেন, কিন্তু ১৯ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ঘানায় বিশেষ পরিবর্তন দেখা দেয়নি। তরুণ, শক্তিশালী, ক্যারিশ্ম্যাটিক নেতা ত্রাওরের কাছে সমগ্র আফ্রিকা ভীষণ আশাবাদী, পশ্চিমী শোষণ তিনিই রুখতে পারবেন, দুর্নীতি দমন আর স্থিতিশীলতা আনার মতো যোগ্য নেতা আর বিশেষ দেখা দেয় না। তবু আছে ভয়, জেরি রলিংসের মতন তিনিও হারিয়ে যাবেন না তো!

Related Articles