Truth Of Bengal,Mou Basu :
কালো রূপ অনেক আছে এ বড় আশ্চর্য কালো,
(যাঁরে) হৃদমাঝারে রাখলে পরে হৃদয়-পদ্ম করে আলো।।
নামে কালী রূপে কালী কালো হতেও অধিক কালো,
ও রূপ যে দেখেছে সেই মজেছে অন্যরূপ লাগে না ভালো।।
পার্থিব জগতের সব প্রাণীকে যিনি সর্বদা কলন বা গ্রাস করে নিচ্ছেন, তাঁর নাম মহাকাল। এঁর কর্মের কোনো বিরাম নেই। সব সময় সংহার কার্যে রত। আর এই মহাকালকে যিনি নিয়ন্ত্রণ করেন তিনিই কালী। ঊনবিংশ শতাব্দীর সংস্কৃত ভাষার বিখ্যাত অভিধান শব্দকল্পদ্রুমে বলা হচ্ছে ‘কাল শিবহ্। তস্য পত্নতি কালী।‘ অর্থাৎ শিবই কাল বা কালবোধক। তাঁর পত্নী কালী। মা কালী মা দুর্গা বা পার্বতীর সংহারী রূপ। তিনি সময়ের, পরিবর্তনের, শক্তির, সংহারের দেবী। তিনি কৃষ্ণবর্ণা বা মেঘবর্ণা এবং ভয়ংকরা।কালীর অন্য নাম শ্যামা বা আদ্যাশক্তি।
জগতের সৃষ্টি, স্থিতি সংহারকারিণী মহীয়সী মহাবিদ্যা মা কালী রজোগুণ দ্বারা সৃষ্টিকর্ত্রী, সত্ত্বগুণ দ্বারা পালনকর্ত্রী আর তমোগুণ দ্বারা সংহারকর্ত্রী। বাংলার মাটি শক্তিপীঠ। সাধারণভাবে জানা যায়, আনুমানিক ষোড়শ শতকে নবদ্বীপবাসী তান্ত্রিক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ প্রথম বাংলায় কালীমূর্তি স্থাপন করে পুজো শুরু করেন। তারপর যুগ যুগ ধরে পরম শ্রদ্ধা, আন্তরিকতা ও গভীর ভক্তিতে এই বঙ্গভূমে মহাদেবী নিত্য পূজিতা হচ্ছেন।
বাঙালি হিন্দু সমাজে কালীর মাতৃরূপের পুজো বিশেষ জনপ্রিয়। দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনের জন্যেই দেবী কালীর পুজো করা হয়। দেবী কালীর অসংখ্য নামের মধ্যে দক্ষিণ, সিদ্ধ, গুন্য, ভদ্র, শ্মশান, রক্ষা ও মহাকালী। কালীপুজো বা শ্যামাপূজা হিন্দু দেবী কালীর পুজোকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত একটি হিন্দু উৎসব।কার্ত্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে অনুষ্ঠিত সাংবাৎসরিক দীপান্বিতা কালীপুজো বিশেষ জনপ্রিয়।
এই দিন আলোকসজ্জা ও আতসবাজির উৎসবের মধ্য দিয়ে পুরো রাত ধরে কালীপুজো অনুষ্ঠিত হয়।দীপান্বিতা কালীপুজোর দিনটিতে ভারতের অন্যান্য জায়গায় দীপাবলি উৎসব পালিত হয়। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে এই দিন লক্ষ্মীপুজো অনুষ্ঠিত হলেও বাঙালি, অসমীয়া ও ওড়িয়ারা এই দিন কালীপুজো করে থাকেন।







