
The Truth of Bengal: উমা আরাধনা শেষ। কয়েকদিন বাপের বাড়ি কাটিয়ে ফিরে গেলেন কৈলাসে। ভারাক্রান্ত মনে উমার বিদায়ে চারিদিকে কত আয়োজন। কর প্রাচীন রীতিনীতি মানা হয় নিরঞ্জনে। তবে বিশেষ কিছু ব্যতিক্রমী ঘটনা নজর কাড়ে। যা অনন্য হয়ে আছে। এমনি একটি প্রথা চলে আসছে তিনশো বছর ধরে। গোধূলি লগ্নে মা চণ্ডীকে লণ্ঠনের আলো দেখিয়ে বিদায় জানালেন মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন। দুর্গাপুজোয় এমনই সম্প্রীতি দেখা যায় মালদার চাঁচলে। এটাই রীতি এখানে। আজ সমাজে চারিদিকে অসহিষ্ণুতার আবহ। বাড়ছে ভেদাভেদ। তবে সেই বিভাজনের মাঝে এমন সম্প্রীতি আজও অটুট মালদার চাঁচলে। কেন এই রীতি? কথিত আছে, একসময় সতীঘাটায় মহানন্দার পশ্চিম পাড়ে মহামারি দেখা দিয়েছিল।
তখন দেবী সেখানকার মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে স্বপ্নাদেশ দিয়ে বলেছিলেন, গোধূলি লগ্নে বিসর্জনের সময় তাঁরা যেন মাকে আলো হাতে পথ দেখান। মাকে আলো দেখানোর পর থেকেই মহামারি দূর হয়। তখন থেকে প্রতিবছরই বিসর্জনের সময় সেখানকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ লণ্ঠন নিয়ে পথ দেখান মাকে। সেই রীতি আজও চলে আসছে। এই সম্প্রীতির সুরে আজও অটুট চাঁচলের রাজবাড়ির পুজোয়।চাঁচলের রাজা রামচন্দ্র রায়বাহাদুর আজ থেকে প্রায় ৩৫০ বছর আগে এই পুজোর সূচনা করেছিলেন। বর্তমানে রাজা নেই। রাজার রাজত্বও নেই। কিন্তু রয়ে গিয়েছে রাজ আমলের রীতি।
আর সেই রীতি মেনেই দশমীর দিন গোধূলি লগ্নে চাঁচল পাহাড়পুরের চণ্ডীমন্দিরের সামনে ঠিক ২০০ মিটার দূরে সতীঘাটে নীরঞ্জনে যান মা চণ্ডী। ও আকবর আলি, সাইফুল হোসেনরা লন্ঠনের আলো দেখিয়ে মা চণ্ডীকে বিদায় জানান।গোধূলি লগ্নেই এখানে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়। সেই নিরঞ্জন দেখতে আশেপাশের এলাকার বহু মানুষ হাজির হন। এখন লণ্ঠন নেই সব বাড়িতে। যাদের বাড়িতে আছে, তাঁরাই নিয়ে আসেন। বাকিরা মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশ আর টর্চ দিয়ে এই নিরঞ্জনে যোগ দেন। হিন্দু-মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখার এমন রীতি এই পুজোকে আলাদা করেছে।
Free Access






