রাজ্যের খবর

জুলিয়াস সিজারের পরিণতি টেনে ‘বেসুরো’ পোস্ট ! সুখেন্দু শেখরের পোস্টে তোলপাড় রাজনীতি

সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে প্রাচীন রোমান ইতিহাসের উদাহরণ টেনে একটি পোস্ট করেছেন।

Truth of Bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর বাংলায় এখন পরিবর্তনের হাওয়া। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দুর্গ। নির্বাচনের এই নজিরবিহীন বিপর্যয়ের পর মাঠ-ময়দান ছেড়ে শাসকদলের প্রথম সারির নেতা-মন্ত্রীরা যখন অন্তরালে, ঠিক তখনই দুর্নীতির অভিযোগে নীচুতলার একের পর এক নেতার গ্রফতারি ঘাসফুল শিবিরের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে দলের অন্দরে জমতে থাকা ক্ষোভের আগুন এবার ছাই চাপা কাটিয়ে ফুলকি হয়ে বাইরে বেরোতে শুরু করেছে। দলীয় কোন্দল ও ঘর সামলাতে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মরিয়া চেষ্টা চালালেও, এবার খোদ তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রবীণ সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়ের একটি ইঙ্গিতপূর্ণ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।

সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে প্রাচীন রোমান ইতিহাসের উদাহরণ টেনে একটি পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘খ্রিস্টপূর্ব ৪৪ সালে মার্চের ‘আইডস’-এর দিন রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার সেনেটের মধ্যেই ছুরিকাঘাতে নিহত হন। রোমান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ‘আইডস’ বলতে সাধারণত মার্চ, মে, জুলাই ও অক্টোবর মাসের ১৫ তারিখকে বোঝানো হতো। কিন্তু এ বছরের মে মাসের ‘আইডস’ আসার আগেই পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অসহনীয় নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়েছেন।’ প্রবীণ এই সাংসদের মুখে ‘নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি’ এবং তা অবসানের কথা শুনে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, বকলমে তিনি রাজ্যে তৃণমূল জমানার শেষ দিনগুলির প্রশাসনিক ব্যর্থতাকেই মেনে নিলেন।

মে মাসের ১৫ তারিখের আগেই বাংলার মানুষ ‘নৈরাজ্যের অবসান’ ঘটিয়েছেন— সুখেন্দু শেখরের এই মন্তব্য ঘাসফুল শিবিরের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতেই এমন বিতর্কিত ও ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করলেন রাজ্যসভার এই সাংসদ? ছাব্বিশের ভোটে নজিরবিহীন পরাজয়ের পর থেকেই দলের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব এবং তাঁর বহুচর্চিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ নিয়ে অনেক নেতাই সরব হতে শুরু করেছেন। দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলায় ইতিপূর্বেই বেশ কয়েকজন নেতাকে নেতৃত্বের রোষের মুখে পড়তে হয়েছে, এমনকি দল থেকে সাসপেন্ডও করা হয়েছে।

এই চরম অভ্যন্তরীণ ডামাডোলের আবহে সুখেন্দু শেখর রায়ের মতো একজন উচ্চশিক্ষিত ও প্রবীণ সাংসদের এই ‘বেসুরো’ পোস্ট তৃণমূল কংগ্রেসকে যে এক বড়সড় আইনি ও রাজনৈতিক বিড়ম্বনায় ফেলল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। একদিকে যখন রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলছে এবং শাসক শিবিরের নীচুতলার সংগঠনে ভাঙন ধরেছে, ঠিক তখনই শীর্ষস্তরের এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিকে কোন মোড়ে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।

Related Articles