রাজ্যের খবর

সব মায়া তুচ্ছ! ৩ বছরের সন্তান ও স্বামী ফেলে ফেসবুকের প্রেমিকার হাত ধরলেন বীরভূমের যুবতী

সব মায়া কাটিয়ে সমাজমাধ্যমে আলাপ হওয়া এক তরুণীর হাত ধরে নতুন জীবনের পথে পা বাড়ালেন এক যুবতী।

Truth of Bengal: বীরভূমের রামপুরহাটে এক নজিরবিহীন সমকামী সম্পর্কের টানাপোড়েন ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। চার বছরের সাজানো সংসার, স্বামী এবং তিন বছরের শিশুপুত্র— সব মায়া কাটিয়ে সমাজমাধ্যমে আলাপ হওয়া এক তরুণীর হাত ধরে নতুন জীবনের পথে পা বাড়ালেন এক যুবতী। শুক্রবার রামপুরহাট মহকুমা আদালতে নিজের বর্তমান স্বামী থেকে মুক্তি চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেছেন ইন্দ্রানী দালাল নামে ওই যুবতী।

ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে এক দীর্ঘ লড়াই ও দমনের গল্প। ইন্দ্রানীর বাপের বাড়ি এবং শ্বশুরবাড়ি বীরভূমের মাড়গ্রাম থানার বসোয়া গ্রামে। তাঁর দাবি, ছোটবেলা থেকেই তিনি সমকামী। চার বছর আগে এক নাবালিকার সঙ্গে ঘর বাঁধার স্বপ্ন নিয়ে আমদাবাদে পালিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পুলিশের হস্তক্ষেপে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায় এবং পরিবারের চাপে তাঁকে গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে পিঁড়িতে বসতে হয়। একটি পুত্রসন্তান হলেও ইন্দ্রানী কখনোই সেই দাম্পত্যে মন বসাতে পারেননি।

দুই বছর আগে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের মতো সমাজমাধ্যমে তাঁর পরিচয় হয় বিহারের ১৯ বছর বয়সী তরুণী প্রীতি কুমারীর সঙ্গে। ধীরে ধীরে সেই আলাপ গভীর প্রেমে রূপ নেয়। দিন কয়েক আগে প্রীতি বিহার থেকে বীরভূমে ইন্দ্রানীর গ্রামে পৌঁছালে দুজনে ঘর ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে তাঁরা পরিবারের নাগালের বাইরে অজ্ঞাত স্থানে রয়েছেন।

আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জানিয়ে ইন্দ্রানী স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি প্রীতির সঙ্গেই বাকি জীবন কাটাতে চান। তাঁদের মতে, কেবল প্রথা মেনে নয়, নিজেদের পছন্দের মানুষের সঙ্গে বাঁচার অধিকার সবার থাকা উচিত। সমাজে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতেই তাঁরা এই কঠিন পথে পা বাড়িয়েছেন বলে দাবি করেছেন। এই ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে; একদিকে যেমন সাহসিকতার প্রশংসা শোনা যাচ্ছে, অন্যদিকে বিচ্ছেদ ও সমকামিতা নিয়ে রক্ষণশীল মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

Related Articles