মানুষ কখনও তাঁকে ভুলবেন না, নেতাজির জন্মবার্ষিকীতে ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, নেতাজি বিশ্বাস করতেন দেশ মানে কোনও একটি ধর্ম বা সম্প্রদায় নয়।
Truth Of Bengal: দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলা তথা গোটা দেশ এবং সারা বিশ্বের মানুষের কাছে নেতাজি শুধুমাত্র একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী নন, তিনি এক চিরন্তন আবেগ। মানুষ তাঁকে কখনও ভোলেনি, ভবিষ্যতেও ভুলবে না। মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, নেতাজি বিশ্বাস করতেন দেশ মানে কোনও একটি ধর্ম বা সম্প্রদায় নয়।
দেশ মানে হিন্দু-মুসলমান-শিখ-খ্রিস্টান, নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র—সবাই মিলেই ভারত। তাঁর গঠিত আজাদ হিন্দ ফৌজ ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা ও সৌভ্রাতৃত্বের এক উজ্জ্বল প্রতীক, যেখানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছিলেন বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ।নেতাজিকে প্রকৃত অর্থে সম্মান জানাতে হলে তাঁর ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির আদর্শ অনুসরণ করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বর্ণ, ধর্ম, লিঙ্গ নির্বিশেষে আমরা সবাই ভারতীয়—এই পরিচয়ই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।নেতাজির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজ্য সরকার একাধিক পদক্ষেপ করেছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, আলিপুর মিউজিয়ামে নেতাজি যে কুঠুরিতে বন্দি ছিলেন তা পুনরুদ্ধার করে সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনী, তাঁর লেখা ‘তরুণের স্বপ্ন’ বইটি বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদসহ একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, নেতাজিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজ্য সরকার ‘তরুণের স্বপ্ন’ নামে একটি প্রকল্প চালু করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার সুবিধার জন্য মোবাইল বা ট্যাব কেনার উদ্দেশ্যে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
নেতাজির অন্তর্ধান প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ১৯৪৫ সালের পর তাঁর কী হয়েছিল তা আজও অজানা। এটি জাতির কাছে এক বড় দুঃখ। তিনি জানান, রাজ্য সরকার বহু আগেই নেতাজি সংক্রান্ত সমস্ত ফাইল প্রকাশ্যে এনেছে এবং তিনি পুনরায় কেন্দ্র সরকারের কাছে আবেদন করবেন যাতে নেতাজি সংক্রান্ত সমস্ত নথি দ্রুত ডিক্লাসিফাই করা হয়।





