Bardwan: মায়ের পুজো করবেন মেয়েরা, বর্ধমানে দুর্গাপূজো শিখছেন ২৫৪ জন গৃহবধূ ও ছাত্রী
বর্ধমান শহরে অবস্থিত ‘বিজয় চতুষ্পাঠি প্রশিক্ষণ শিবির’ এবছর দ্বিতীয় বর্ষে পা রাখল।
পিন্টু প্যাটেল, পূর্ব বর্ধমানঃ সংস্কৃত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন চতুষ্পাঠির পরিচালনায় আয়োজিত হয়েছে এক অনন্য দুর্গাপূজো প্রশিক্ষণ শিবির। বর্ধমান শহরে অবস্থিত ‘বিজয় চতুষ্পাঠি প্রশিক্ষণ শিবির’ এবছর দ্বিতীয় বর্ষে পা রাখল। গত বছর শুরু হওয়া এই উদ্যোগে এবছরও বিপুল সাড়া মিলেছে। মোট ২৫৪ জন নারী এই প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশগ্রহণ করেছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন গৃহবধূ, কলেজ ছাত্রী থেকে শুরু করে বয়স্কা মহিলারাও।(Bardwan)
আরও পড়ুনঃ BCCI Election: বিসিসিআই নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু, লোধা আইন মেনেই হবে নির্বাচন
এই শিবিরে অংশগ্রহণকারীরা সংস্কৃত ভাষায় দুর্গাপূজোর বিভিন্ন মন্ত্র, চণ্ডীপাঠ, বেদ, বেদান্ত ও ব্যাকরণ শিক্ষার মাধ্যমে পুরোহিত হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করছেন। এতদিন পর্যন্ত যাঁরা পুজোর সময় ঠাকুর সাজানো, ফুল ও ফল কাটার কাজে যুক্ত থাকতেন, আজ তাঁরা নিজেদের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে মায়ের আবাহনের জন্য নিজেই পুরোহিত হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছেন।( Bardwan)
লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal
সমাজে পুরুষতান্ত্রিক প্রথার ফলে চিরকাল পুরোহিতের আসনে পুরুষদেরই দেখা গিয়েছে। কিন্তু আজকের দিনে নারীরা যখন রাজ্য চালাচ্ছেন, দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তখন পুরোহিতের আসনেও তাঁদের দেখা পাওয়া সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। সেই পথেই এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী থাকছে বর্ধমানের এই প্রশিক্ষণ শিবির।( Bardwan)
প্রশিক্ষক পণ্ডিতদের মতে, মন্ত্র সবার জন্যই—সঠিক উচ্চারণই আসল শর্ত। নারী বা পুরুষ হওয়া নয়, মন্ত্রোচ্চারণে শুদ্ধতা ও নিষ্ঠাই হল প্রকৃত পৌরহিত্যের মূল চাবিকাঠি। এর আগেও এই প্রশিক্ষণ শিবির থেকে শিখে বেরিয়ে কেউ কেউ দুর্গাপুজো সম্পাদন করছেন, আবার অনেকে কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতাও করছেন।( Bardwan)
এই উদ্যোগ যে কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং একটি সামাজিক বিপ্লবের সূচনা, তা বলাই বাহুল্য। ভবিষ্যতে বাংলার মন্দিরে মন্দিরে ‘কন্যাশ্রী’রাই যখন মাতৃরূপে মাকে আরাধনা করবেন, তখন হয়তো সমাজে নারীর অবস্থান নিয়ে অনেক পুরনো ধ্যান-ধারণা বদলে যাবে।



