৪১ বছর পর এশিয়া কাপের ফাইনালে মুখোমুখী ভারত-পাক, উন্মাদনা তুঙ্গে
ভারতের কাছে পরপর দুই ম্যাচ হেরে যথারীতি চাপে থাকা অবস্থায় ফাইনালে নামছে পাকিস্তান।
Truth Of Bengal: এশিয়া কাপের ফাইনালে দুই দেশ মুখোমুখি হয়েছিল ৪১ বছর আগে। এবার আবার সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। এশিয়া কাপের ফাইনালে মুখোমুখি লড়াই ভারত-পাকিস্তানের। চলতি টুর্নামেন্টে ভারতের বিরুদ্ধে এর আগে দু’বার মাঠে নেমে দু’বারই হেরেছে পাক দল। যদিও বাকি ম্যাচগুলিতে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে তারা। অন্যদিকে ভারতীয় দল এখনও পর্যন্ত চলতি টুর্নামেন্টে কোনও ম্যাচ হারেনি। নিজেদের শেষ মাচে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সুপার ওভারেও জয় ছিনিয়ে নিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। ফলে অনেকটাই এগিয়ে শুরু করবে ভারত। সেদিকে দেখতে গেলে ভারতের কাছে পরপর দুই ম্যাচ হেরে চাপে থাকা অবস্থায় ফাইনালে নামছে পাকিস্তান।
আজ থেকে ঠিক ৪১ বছর আগের কথা। সেদিন শারজার মাটিতে এই এশিয়া কাপকে সামনে রেখেই মুখোমুখি হয়েছিল উপমহাদেশের যুযুধান দুই পক্ষ ভারত ও পাকিস্তান। ম্যাচের প্রথমে ব্যাট করে নয় উইকেটের বিনিময়ে ১৭৬ রান করেছিল পাকিস্তান। তাও তাদের সম্ভব হয়েছিল জাভেদ মিয়াদাদের ৯২ বলে ৪৮ রানের সুবাদে। ভারতের হয়ে সেই ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছিলেন কপিলদেব ও লক্ষ্মণ শিবরামকৃষ্ণাণ। এবং ব্যাট হাতে রবি শাস্ত্রী ও কৃষ্ণ মাচারী শ্রীকান্তের দুরন্ত অর্ধশতরান ভারত জয় পেয়েছিল আট উইকেটে।
মাঝে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পর এবার আবার এশিয়া কাপের ফাইনালে পরস্পরের মুখোমুখি ভারত ও পাকিস্তান। অর্থাৎ আবারও একটা হাইভোল্টেজ ম্যাচ।
এবারের এশিয়া কাপে দুই দেশের পারফরম্যান্সের হিসেব দেখলে দেখা যাচ্ছে ভারতের পক্ষে পরিসংখ্যান অনেকটা উঁচুতে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই যেভাবে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপে অভিষেক, সঞ্জু, তিলক, শিভম এবং বোলিংয়ে কুলদীপ যাদব, বরুণ চক্রবর্তীরা পারফরম্যান্স করছেন তাতে ভারত অনেকটাই এগিয়ে। এ কথাই বলছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। অবশ্য তার প্রমাণ ভারতীয়রা দিয়েছেন প্রতিটা ম্যাচে। এমনকী সুপার ফোরের শেষ ম্যাচেও শ্রীলঙ্কাকে যেভাবে সুপার ওভারে পরাজিত করল, তাতে আত্মবিশ্বাস কোন উচ্চতায় রয়েছে সেটা ফের একবার প্রমাণ করেছে গম্ভীর ব্রিগেড।
তবে মাথায় রাখতে হবে খেলাটার নাম ক্রিকেট। বড় অনিশ্চয়তার খেলা। যে কোনও সময় ঘুরে যেতে পারে ম্যাচের রং। তাই গ্রুপ পর্যায়ে এবং সুপার ফোরে পরাজিত পাকিস্তান যে ফাইনাল ম্যাচে মারণ কামড় দেবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু খুব একটা লাভ কি হবে তাতে? কেন না বর্তমান পাক দলের অধিকাংশ ক্রিকেটারই একেবারে নতুন। ভারতের বিপক্ষে এমন হাইভোল্টেজ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতার ভাড়ার তাঁদের কাছে নেই বললেই চলে। এর পাশাপাশি যাঁরা সিনিয়র আছেন, যেমন হ্যারিস রউফ, সলমন আগা, ফকর জামান, শাহিন-শা আফ্রিদির মতো ক্রিকেটাররা। শাহিন সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে বল হাতে জ্বলে উঠলেন, কিন্তু সিনিয়র ব্যাটারদের ভাঁড়ারে রানের অবস্থা ‘ভাড়ে মা ভবানীর’ মত। এই অবস্থায় যতই ভারত বধের স্বপ্ন পাক শিবির দেখুক না কেন, তাতে কি খুব একটা লাভবান হবে পাক বাহিনী?
অবশ্য এই উত্তর মিলবে আজ রাতে। হাইভোল্টেজ ২২ গজের ‘যুদ্ধে’ পরিসংখ্যান, হিসেব যাই থাকুক না কেন, মাঠে যে সেরাটা দিতে পারবে সেই বাজিমাত করবে। এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। তবুও পর পর দুই ম্যাচে জেতার সুবাদে অবশ্যই অ্যাডভান্টেজে গম্ভীর বাহিনী।






