কলকাতা

Nipah Virus: শীতের নলেন গুড়েও লুকিয়ে নিপা ভাইরাসের ভয়? কী জানালেন বিশেষজ্ঞরা?

বর্তমানে এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর।

Truth of Bengal: বাংলার স্বাস্থ্যমহলে ফের উদ্বেগ বাড়িয়ে থাবা বসালো নিপা ভাইরাস। কেরলের পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও এই মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। সোমবার এক বিশেষ সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বাস্থ্যসচিব স্বরূপ নিগম নিশ্চিত করেছেন যে, দুই স্বাস্থ্যকর্মী নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে বাংলায় নিপার সংক্রমণ এই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিকবার এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখেছে রাজ্যবাসী। বর্তমানে এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর।

চিকিৎসকদের মতে, নিপা ভাইরাসের প্রধান উৎস হলো ফ্রুট-ব্যাট বা ফলভুক বাদুড়। এই বিশেষ প্রজাতির বাদুড় সাধারণত সাধারণ বাদুড়ের তুলনায় আকারে কিছুটা বড় হয়। জীবতত্ত্ববিদদের মতে, ভারতে মূলত পশ্চিমঘাট পর্বতমালা, মহারাষ্ট্র ও কেরলে এই বাদুড় বেশি দেখা গেলেও বাংলাতেও এদের অস্তিত্ব রয়েছে। বিশেষ করে কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা এবং বর্ধমানের মতো এলাকায় ফ্রুট-ব্যাটের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। এই বাদুড়ের লালা বা মলমূত্র ফলের সংস্পর্শে এলে এবং সেই ফল মানুষ খেলে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

শীতকালীন বাংলায় খেজুর রসের জনপ্রিয়তা ও এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। নিপা আতঙ্কের জেরে খেজুর রস ও গুড় খাওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী জানিয়েছেন, বাদুড় সাধারণত উঁচু গাছে থাকতে পছন্দ করে, বিশেষ করে তাল ও খেজুর গাছে। যেহেতু এখন খেজুর রসের মরসুম, তাই রসের হাঁড়িতে বাদুড়ের সংস্পর্শ আসার মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা অনেকটা বেশি থাকে। ফলে গাছ থেকে নামানো কাঁচা রস সরাসরি খাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।

তবে খেজুর রস প্রেমীদের জন্য আশার কথা শুনিয়েছেন অধ্যাপক চিকিৎসক শুভ্রজ্যোতি ভৌমিক। তিনি জানান, খেজুর রস বা গুড় খাওয়ার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে খাওয়ার পদ্ধতিতে বদল আনতে হবে। রস যদি ভালো করে ফুটিয়ে নেওয়া হয়, তবে ভাইরাসের সংক্রমণের ভয় থাকে না। যেহেতু গুড় তৈরির সময় রসকে দীর্ঘক্ষণ ধরে ফোটানো হয়, তাই গুড় খাওয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Related Articles