কলকাতা

অবৈধ পার্টি অফিস তৈরির অভিযোগ! শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি সুব্রত বক্সীর

বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী কার্যালয় স্থাপনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করল তৃণমূল কংগ্রেস।

Truth of Bengal: ভবানীপুর বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে। এই হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর লড়াইয়ের আবহে এবার অবৈধ নির্মাণ ও নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ ঘিরে সংঘাত চরমে পৌঁছাল। বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী কার্যালয় স্থাপনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করল তৃণমূল কংগ্রেস।

তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী কমিশনকে দেওয়া চিঠিতে অভিযোগ করেছেন, কলকাতা পুরসভার ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত ২৩বি, অরফ্যানগঞ্জ রোডে একটি বিতর্কিত জমিতে আইন ভেঙে বিশাল বাঁশের কাঠামো বা প্যান্ডেল তৈরি করছে বিজেপি। দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জমিটি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা বিচারাধীন এবং পুরসভা গত বছরের অক্টোবর মাসেই সেখানে ‘স্টপ ওয়ার্ক’ নোটিস জারি করেছিল। এমনকি এই নির্মাণকে কেন্দ্র করে আলিপুর থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট ধারায় মামলাও রুজু হয়েছে। শাসকদলের অভিযোগ, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করেই এই কাজ চালানো হচ্ছে। চিঠিতে সুব্রত বক্সী আরও উল্লেখ করেছেন যে, নির্মাণকাজে বাধা দিতে গেলে বিরোধী দলনেতা কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের হুমকি দেন এবং নির্বাচনের পর তাঁদের ‘শিক্ষা দেওয়া’র হুঁশিয়ারি দেন। তৃণমূলের সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারের মতে, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে বিতর্কিত জমিতে অফিস তৈরি করে ভবানীপুরে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে।

পাল্টা জবাবে দক্ষিণ কলকাতা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ খটিক তৃণমূলের এই পদক্ষেপকে ‘ভীতির বহিঃপ্রকাশ’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর দাবি, শুভেন্দু অধিকারী প্রার্থী হওয়াতেই শাসকদল আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। বিজেপির মতে, যারা দেশের সাংবিধানিক প্রধানদের সম্মান করে না, তাদের কাছ থেকে আইনের পাঠ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহেই এই পার্টি অফিস নির্মাণকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে পুলিশের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের দফায় দফায় বচসা হয়। সেই সময় স্বয়ং শুভেন্দু অধিকারী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন। এবার এই বিতর্ক আইনি ও প্রশাসনিক লড়াইয়ের মোড় নিল। এখন দেখার, হাইভোল্টেজ এই কেন্দ্রে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

Related Articles