আন্তর্জাতিক

আয়রন ডোমও ব্যর্থ! ইরানের ব্যালেস্টিক মিসাইলে তছনছ মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন এয়ারবেস

সেই বৈঠকে পাকিস্তানকে দুই দেশের মধ্যে হওয়া পুরনো প্রতিরক্ষা চুক্তির কথাও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

Truth Of Bengal: সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে ইরান। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়েছে সৌদি আরব। পাক সেনাপ্রধান ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সলমন আল সৌদ। সেই বৈঠকে পাকিস্তানকে দুই দেশের মধ্যে হওয়া পুরনো প্রতিরক্ষা চুক্তির কথাও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

শনিবার সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, রিয়াধে আসিম মুনির এবং খালিদ বিন সলমনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকে ইরানের সাম্প্রতিক হামলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সৌদি আরব জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে গত বছর যে কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তার কাঠামোর মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সৌদি আরব ও পাকিস্তান উভয় দেশই আশা করছে ইরান পরিস্থিতি বিবেচনা করে যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত নেবে এবং ভবিষ্যতে আর কোনও ভুল পদক্ষেপ করবে না। সূত্রের খবর, বৈঠকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও সৌদি আরবের পাশে থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে, তৃতীয় কোনও দেশ যদি সৌদি আরব বা পাকিস্তানের উপর হামলা চালায়, তবে তা দুই দেশের বিরুদ্ধেই আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। সেই পরিস্থিতিতে উভয় দেশই যৌথভাবে তার জবাব দেবে এবং প্রয়োজনে একে অপরের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

উল্লেখ্য, গত বছর ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর পাকিস্তানের সঙ্গে চার দিনের সশস্ত্র সংঘাতের পরই সৌদি আরবের সঙ্গে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল পাকিস্তান।

এদিকে গত শনিবার থেকে ইরানের উপর যৌথভাবে হামলা শুরু করেছে মার্কিন ও ইজরায়েলি বাহিনী। সেই হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে ইরান। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবেও বিস্ফোরণ ঘটে, যদিও সৌদি বাহিনী একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। শুধু সৌদি আরব নয়, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ওমান, কাতার, কুয়েত, বাহরিন এবং ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলিকেও লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান।

এই পরিস্থিতিতে তেহরানে মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে খামেনেইয়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছিল পাকিস্তান। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টি সামনে আসার পর পাকিস্তান ভবিষ্যতে কোন অবস্থান নেবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

Related Articles