দেশ

ভরা ক্লাসে ছাত্রকে ‘জঙ্গি’ বলে অপমান! বেঙ্গালুরুর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চরম বিতর্ক

সেই ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় প্রবল বিতর্ক

Truth Of Bengal: বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভরা ক্লাসের মধ্যে এক পড়ুয়াকে ‘জঙ্গি’ বলে অপমান করার অভিযোগে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বেঙ্গালুরুর পিইএস বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ক্লাস চলাকালীন এক পড়ুয়া বেরিয়ে যাওয়ার অনুমতি চাইলে অভিযুক্ত অধ্যাপক তাঁকে উদ্দেশ করে একের পর এক কটূক্তি করেন। এক পর্যায়ে ওই পড়ুয়াকে প্রকাশ্যে ‘জঙ্গি’ বলে তকমা দেন এবং ইরানের যুদ্ধের জন্য তাকেই দায়ী করেন বলে অভিযোগ।

অভিযুক্ত অধ্যাপকের নাম মুরলীধর দেশপাণ্ডে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার তাঁর ক্লাস চলাকালীন আফান নামে এক পড়ুয়া ক্লাস থেকে বেরনোর অনুমতি চেয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই অনুরোধ শুনেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন অধ্যাপক। ভাইরাল ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, তোমার লজ্জা করে না? তোমাদের মতো লোকেদের জন্যই ইরানে যুদ্ধ হচ্ছে। তোমরা জঙ্গি। তোমাদের নরকে যাওয়া উচিত। ক্লাসে উপস্থিত অন্য এক পড়ুয়া পুরো ঘটনাটি মোবাইলে রেকর্ড করেন এবং সেই ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় প্রবল বিতর্ক। নেটদুনিয়ায় অধ্যাপকের মন্তব্যকে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক বলে আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বহু মানুষ।

ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পড়ুয়ার তরফ থেকে অভিযোগ পাওয়ার ভিত্তিতে অভিযুক্ত অধ্যাপককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার তিনদিন পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন কারণে আরও তিনজন পড়ুয়াকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এদিকে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে বেঙ্গালুরু পুলিশ ভাইরাল ভিডিও দেখে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

পুলিশের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় অভিযোগ দায়ের করলে অধ্যাপকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হত, কিন্তু তা হয়নি। অন্যদিকে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তারা অভিযুক্ত অধ্যাপকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও তুলেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত অধ্যাপকের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Related Articles