পুলিশের চুলে লাল রঙ! সমাজমাধ্যমে ছবি ভাইরাল হতেই ডিএসপি-কে কড়া নির্দেশ ওড়িশা পুলিশের
কিছু ছবি ও ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়, যেখানে তাঁর চুলের উজ্জ্বল লাল রঙ সবার নজর কাড়ে।
Truth of Bengal: চুলের স্টাইল বা রঙ করা নিয়ে সাধারণত সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন কোনও কড়াকড়ি না থাকলেও, একজন পদস্থ পুলিশ আধিকারিকের ক্ষেত্রে তা বড়সড় বিতর্কের জন্ম দিল। নিজের চুলে লাল রঙ করিয়ে এবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের রোষানলে পড়লেন ওড়িশার এক পুলিশ আধিকারিক। সমাজমাধ্যমে তাঁর সেই রঙিন চুলের ছবি ছড়িয়ে পড়তেই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তুলে তাঁকে অবিলম্বে স্বাভাবিক চুলে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছে ওড়িশা পুলিশ। ঘটনাটি ওড়িশার জগৎসিংহপুর জেলার। সেখানকার ডিএসপি রশ্মিরঞ্জন দাস নিজের দপ্তরে একজন অত্যন্ত কড়া অফিসার হিসেবে পরিচিত। ৪৯ বছর বয়সী এই আধিকারিক বর্তমানে মানবাধিকার রক্ষা সেলের সঙ্গে যুক্ত। সম্প্রতি জগৎসিংহপুরে একটি বিক্ষোভ পরিস্থিতি সামলাতে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময়কার কিছু ছবি ও ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়, যেখানে তাঁর চুলের উজ্জ্বল লাল রঙ সবার নজর কাড়ে। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ আধিকারিকের এমন সাজপোশাক নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।
বিভাগীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রশ্মিরঞ্জন যখন প্রথমবার চুলে এই রঙ করিয়ে অফিসে এসেছিলেন, তখন তাঁর সহকর্মীরাই তাঁকে রঙ বদলে ফেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময় তিনি কারও কথায় কান দেননি। তবে বিষয়টি নিয়ে সমাজমাধ্যমে শোরগোল শুরু হওয়ায় নড়েচড়ে বসে ওড়িশা রাজ্য পুলিশ। পুলিশের ম্যানুয়ালে চুলের স্টাইল বা রঙের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও লিখিত নিয়ম না থাকলেও, বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি বলে মনে করছেন উচ্চপদস্থ কর্তারা। ওড়িশা পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন যে, পুলিশের কাছ থেকে সবসময় মার্জিত আচরণ ও সাজসজ্জা প্রত্যাশিত। সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যেতে পারে এমন কিছু এড়িয়ে চলাই বাঞ্ছনীয়। সেই কারণেই ডিএসপি রশ্মিরঞ্জনকে তাঁর চুলের রঙ পরিবর্তন করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশ পাওয়ার পর ওই আধিকারিককে নিয়ে বাহিনীর ভেতরেও বেশ চর্চা শুরু হয়েছে।
এই কেশ-বিতর্ক নিয়ে খোদ ডিএসপি এখনও পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেননি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, শখের বসে করানো এই চুলের রঙ যে শেষ পর্যন্ত বিভাগীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে আটকে যাবে, তা তিনি আগে আঁচ করতে পারেননি। পুলিশের ভাবমূর্তি রক্ষায় এখন তিনি দ্রুত নিজের পুরনো লুকে ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে।




