দেশ

Madhya Pradesh: শৌচালয় নেই ২০০০ স্কুলে, তার মাঝেই নতুন স্কুল ভাঙার নোটিস! মধ্যপ্রদেশে চাঞ্চল্য

এই ভাঙচুরের পেছনে উঠে এসেছে ‘অবৈধ মাদ্রাসা’ সংক্রান্ত গুজব ও অভিযোগ।

Truth of Bengal: মধ্যপ্রদেশে যেখানে ৮৩ হাজারেরও বেশি সরকারি স্কুলে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা চলে, সেখানে পরিকাঠামোর ঘাটতি নতুন নয়। রাজ্যের পরিসংখ্যান বলছে, এখনও ২০০-র বেশি সরকারি স্কুলের নিজস্ব ভবন নেই, প্রায় ২ হাজার স্কুলে ছেলেদের জন্য শৌচালয় নেই এবং প্রায় ১ হাজার ৭০০ স্কুলে নেই মেয়েদের শৌচালয়ের ব্যবস্থা। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই এক প্রত্যন্ত গ্রামে একটি স্কুল ভবন ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে। কারণ, এই ভাঙচুরের পেছনে উঠে এসেছে ‘অবৈধ মাদ্রাসা’ সংক্রান্ত গুজব ও অভিযোগ।

ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের বেতুল জেলার ভৈন্সদেহি ব্লকের ঢাবা গ্রামে। গ্রামের বাসিন্দা আবদুল নাইম নিজের খরচে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে একটি ছোট বেসরকারি স্কুল নির্মাণ করছিলেন। প্রায় দুই হাজার মানুষের এই গ্রামে মুসলিম পরিবারের সংখ্যা মাত্র তিনটি। নাইমের দাবি, গ্রামের শিশুদের জন্যই তিনি নার্সারি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত একটি স্কুল চালুর পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে ভবন নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই এবং কোনও ক্লাস শুরু না হতেই, তিন দিন আগে গ্রামে রটতে শুরু করে যে সেখানে নাকি বেআইনি মাদ্রাসা চালানো হচ্ছে। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন নাইম।

১১ জানুয়ারি গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে নাইমকে একটি নোটিস পাঠানো হয়, যেখানে অনুমতি না থাকার অভিযোগ তুলে ভবন ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নাইম জানান, তিনি বিষয়টি নিয়ে পঞ্চায়েত অফিসে গেলে তাঁর আবেদন গ্রহণ করা হয়নি এবং পরে আসতে বলা হয়। তাঁর দাবি, এর আগেই ৩০ ডিসেম্বর স্কুল শিক্ষা দফতরে তিনি নার্সারি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুল চালানোর অনুমতির জন্য আবেদন করেছিলেন এবং জমির সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিও জমা দিয়েছিলেন।নোটিস ঘিরে গ্রামে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। বহু গ্রামবাসী এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে প্রতিবাদে নামেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ১২ জানুয়ারি তড়িঘড়ি একটি নো অবজেকশন সার্টিফিকেট বা এনওসি জারি করে পঞ্চায়েত। পরে গ্রামের সরপঞ্চও জানান, গ্রামে কোনও মাদ্রাসা চলার অভিযোগ তিনি কখনও পাননি এবং স্কুলের জন্য অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু এত কিছুর পরেও ১৩ জানুয়ারি ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়। ওই দিন গ্রামবাসীদের একটি দল জেলা সদর দফতরে কালেক্টরের সঙ্গে দেখা করতে গেলে, সেই সময়ই প্রশাসনের একটি দল জেসিবি মেশিন নিয়ে গ্রামে পৌঁছে যায়। ভৈন্সদেহির সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট অজিত মারাভির তত্ত্বাবধানে, বিপুল পুলিশ ও রাজস্ব দফতরের উপস্থিতিতে স্কুল ভবনের একটি অংশ এবং সামনের শেড ভেঙে ফেলা হয়। প্রশাসনের দাবি, ওই নির্মাণটি অবৈধ দখল এবং বেআইনি নির্মাণের আওতায় পড়ে।

Related Articles