দেশ

স্বমহিমায় ফিরলেন ওম বিড়লা! বিরোধীদের কড়া বার্তা দিয়ে শুরু অধিবেশন

বুধবার সেই অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ হওয়ার পর পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করে বিরোধীদের কড়া বার্তা দিলেন তিনি।

Truth of Bengal: ধ্বনিভোটে জয়ী হয়ে লোকসভার স্পিকারের আসনে ফিরেই কড়া মনোভাব প্রকাশ করলেন ওম বিড়লা। বৃহস্পতিবার সংসদ পরিচালনা করতে গিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, লোকসভা সম্পূর্ণভাবে নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া মেনে চলে এবং কোনো সাংসদই যখন খুশি যা ইচ্ছা বলার বিশেষ অধিকার ভোগ করেন না। রাজস্থানের কোটা থেকে নির্বাচিত এই বিজেপি সাংসদের বিরুদ্ধে গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিল বিরোধীরা। সেই অভিযোগের জেরে গত ৯ মার্চ বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরুর পর থেকে তিনি স্পিকারের আসনে না বসে সাধারণ সদস্যদের আসনেই বসছিলেন। বুধবার সেই অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ হওয়ার পর পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করে বিরোধীদের কড়া বার্তা দিলেন তিনি।

স্পিকারের আসনে বসে ওম বিড়লা মন্তব্য করেন যে, এই আসনটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নয়, বরং এটি সংসদের মর্যাদার প্রতীক। কোনো সদস্যের কাছে এটি গ্রহণযোগ্য হোক বা না হোক, সংসদীয় রীতিনীতি মেনেই অধিবেশন চলবে এবং তিনি সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করবেন। শাসকপক্ষের সদস্যদের টেবিল চাপড়ানোর মধ্যে তিনি আরও বলেন যে, সংসদের কোনো সদস্যেরই নিয়মের বাইরে গিয়ে কথা বলার অধিকার নেই। বাজেট অধিবেশনের বিতর্কে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে পর্যাপ্ত সুযোগ না দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছিল, তার প্রেক্ষিতে বিড়লা জানান যে, চেয়ারের অনুমতি ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বা কোনো মন্ত্রীও কথা বলতে পারেন না। এমনকি বিরোধী সাংসদদের মাইক বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও তিনি খারিজ করে দেন। তাঁর দাবি, মাইক নিয়ন্ত্রণ করার কোনো সুইচ তাঁর কাছে থাকে না; স্পিকার অনুমতি দিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাইক চালু হয়।

তবে স্পিকারের এই নিরপেক্ষতার দাবির মাঝেই নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাহুল গান্ধী যখন প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ নরবণের একটি অপ্রকাশিত বই থেকে চিনা আগ্রাসন নিয়ে উদ্ধৃতি দিতে চেয়েছিলেন, তখন সংসদীয় বিধির দোহাই দিয়ে স্পিকার তাঁকে বাধা দিয়েছিলেন। অথচ বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেকে তাঁর বক্তৃতায় গান্ধী-নেহরু পরিবার নিয়ে বিভিন্ন বই থেকে উদ্ধৃতি দিতে বাধা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি বৃহস্পতিবারও নিশিকান্ত দুবে একটি বইয়ের প্রসঙ্গ টেনে জওহরলাল নেহরু সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন বলে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই নিজের বক্তব্য শেষ করে দুপুর ২টো পর্যন্ত সভা মুলতুবি করে দেন স্পিকার ওম বিড়লা।

Related Articles