দেশ

Air India: নিরাপত্তা সংকটে এয়ার ইন্ডিয়া! টাটার কাছে বিশাল অর্থসহায়তার আবেদন

এই ভয়াবহ ঘটনার ধাক্কা সামাল দিতে এয়ার ইন্ডিয়া তাদের মালিক টাটা সন্স এবং সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের (Singapore Airlines) কাছে কমপক্ষে ১০,০০০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা চেয়েছে।

Truth of Bengal: গত জুনে বিমান দুর্ঘটনায় ২৪০ জনেরও বেশি যাত্রী নিহত হওয়ার পর এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India) কার্যক্রম নিবিড় পর্যবেক্ষণের মুখে পড়েছে। এই ভয়াবহ ঘটনার ধাক্কা সামাল দিতে এয়ার ইন্ডিয়া তাদের মালিক টাটা সন্স এবং সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের (Singapore Airlines) কাছে কমপক্ষে ১০,০০০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা চেয়েছে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে এই খবর জানা গেছে।

২০২২ সালে টাটা গ্রুপ এয়ার ইন্ডিয়ার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সংস্থাটি তাদের পুরোনো বিমান বহরকে আধুনিকীকরণ, কার্যক্রমকে সুসংহত করা এবং সুনাম পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে আসছে। এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে এই আর্থিক সহায়তার আবেদন এল। বর্তমানে টাটা গ্রুপের কাছে এয়ার ইন্ডিয়ার ৭৪.৯% অংশীদারিত্ব রয়েছে, এবং বাকি অংশ সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের মালিকানায়। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই প্রস্তাবিত অর্থ এয়ার ইন্ডিয়ার নিরাপত্তা, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং রক্ষণাবেক্ষণের মূল ব্যবস্থাগুলির সংস্কারে সাহায্য করবে। পাশাপাশি, কর্মী প্রশিক্ষণ, বিমানের কেবিন উন্নত করা এবং অপারেশনাল প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াতেও এই অর্থ কাজে লাগানো হবে।

এই অর্থায়নের কাঠামো নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। এটি সুদমুক্ত ঋণ (interest-free loan) বা মালিকানার অংশ অনুপাতে নতুন ইকুইটি (fresh equity) হিসেবেও আসতে পারে। রয়টার্সকে পাঠানো ইমেল জবাবে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, তারা এয়ার ইন্ডিয়ার চলমান রূপান্তর কর্মসূচিকে সমর্থন করতে টাটা সন্সের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছে, যার মধ্যে অপারেশনাল দক্ষতা প্রদানও অন্তর্ভুক্ত। তবে, এয়ার ইন্ডিয়া এবং টাটা সন্স এই প্রতিবেদন নিয়ে প্রকাশ্যে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।

জুনের দুর্ঘটনাটি এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে ভারতে সবচেয়ে মারাত্মক বিমান দুর্ঘটনা ছিল, যা এয়ার ইন্ডিয়ার ঘুরে দাঁড়ানোর গতিকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। তদন্তকারীরা এই ঘটনায় প্রযুক্তিগত ও প্রক্রিয়াগত ত্রুটি উভয়ই খতিয়ে দেখছেন। ফলস্বরূপ, বিমান সংস্থার রক্ষণাবেক্ষণের মান এবং পাইলট প্রশিক্ষণের বিষয়ে নিয়ন্ত্রক তদারকি আরও কঠোর হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে এয়ার ইন্ডিয়ার সিইও কর্মীদের আশ্বাস দেন যে, নিরাপত্তা ও অপারেশনাল শৃঙ্খলা কঠোর করতে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা চলছে।

এয়ার ইন্ডিয়া বহু-বছরের একটি পুনরুজ্জীবন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, যার মধ্যে ভিস্তারা (Vistara)-কে এর কার্যক্রমের সাথে একীভূত করা, এয়ারবাস (Airbus) এবং বোয়িং (Boeing)-এর কাছ থেকে ৪৭০টি বিমানের বিশাল অর্ডার দেওয়া এবং উপসাগরীয় বিমান সংস্থাগুলির কাছে হারানো প্রিমিয়াম আন্তর্জাতিক রুটগুলি পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা অন্তর্ভুক্ত। তবে এই দুর্ঘটনাটি সংস্থার সাংগঠনিক সংস্কৃতি, ইঞ্জিনিয়ারিং নির্ভরযোগ্যতা এবং ব্যবস্থাপকীয় সংস্কারের গতি নিয়ে পুরোনো প্রশ্নগুলিকে আবার সামনে এনেছে। বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা বাড়ছে এবং লোকসানও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে এয়ার ইন্ডিয়া তাদের শেয়ারহোল্ডারদের কাছে শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, বরং একটি জাতীয় বিমান সংস্থা হিসেবে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতাকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য জোরালো সমর্থন চাইছে।

Related Articles