বিনোদন

শোকের ছায়া বিনোদন জগতে, প্রয়াত ইন্ডিয়ান আইডল খ্যাত প্রশান্ত তামাং

সূত্রের খবর, সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশে একটি লাইভ পারফরম্যান্স শেষ করে তিনি দিল্লিতে ফিরে এসেছিলেন।

Truth Of Bengal: প্রসিদ্ধ গায়ক ও অভিনেতা প্রশান্ত তামাং আর আমাদের মধ্যে নেই। শনিবার, ১১ জানুয়ারি ভোরে তাঁর নিউ দিল্লির বাসভবন থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন। যদিও এখনও সরকারি কোনও মৃত্যুর রিপোর্ট প্রকাশিত হয়নি। প্রসান্তের বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৩ বছর।

সূত্রের খবর, সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশে একটি লাইভ পারফরম্যান্স শেষ করে তিনি দিল্লিতে ফিরে এসেছিলেন। সফরের সময় বা তার আগে তিনি কোনও গুরুতর অসুস্থতার উল্লেখ করেননি। তাই এই আকস্মিক মৃত্যুর খবরে পরিবার, অনুরাগী ও সহকর্মীরা গভীরভাবে স্তম্ভিত। খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গীত ও বিনোদন জগতে শোকের ছায়া নেমেছে।

প্রসান্তের জীবনযাত্রা ছিল অত্যন্ত নাটকীয়। কলকাতা পুলিশের সাধারণ কনস্টেবল থেকে শুরু করে জাতীয় পরিচিতি পাওয়া পর্যন্ত, তাঁর যাত্রা যেন এক বলিউডি চিত্রনাট্যের মতো। ২০০৭ সালে ‘ইন্ডিয়ান আইডল সিজন ৩’-এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাতারাতি তিনি দেশব্যাপী খ্যাতি পান। কোনো বড় সংগীত সংস্থা বা ইন্ডাস্ট্রির সমর্থন ছাড়াই নিজের সরলতা এবং আবেগময় কণ্ঠের জোরে কোটি কোটি দর্শকের মন জয় করেছিলেন তিনি। বিশেষ করে দার্জিলিং, গোর্খা সম্প্রদায় এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষ তাঁর প্রতি গর্ব ও আবেগের সঙ্গে বাঁধা ছিলেন।

গানের জগতে ‘বীর গোর্খালি’ এবং ‘আসারে মাহিনামা’ তাঁর আলাদা স্থান করে নিয়েছে। এছাড়াও অভিনয় জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। সম্প্রতি ‘পাতাল লোক সিজন ২’-এ ড্যানিয়েল লেচো চরিত্রে অভিনয় করে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে প্রসান্ত ছিলেন অত্যন্ত পরিবারমুখী। ২০১১ সালে নাগাল্যান্ডে তিনি গীতা থাপা-কে বিয়ে করেন। তাদের একটি কন্যা, আরিয়াহ। কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও পরিবারকে জীবনযাত্রার সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দেখাতেন তিনি। ঘনিষ্ঠদের মতে, খ্যাতির আলো তাকে কখনও বদলাতে পারেনি।

প্রসান্তের মৃত্যু কেবল একজন শিল্পীর চলে যাওয়া নয়; এটি এক প্রজন্মের অনুপ্রেরণারও ক্ষয়। তবে মঞ্চের আলো নিভলেও তাঁর গান, সংগ্রাম এবং বিশ্বাসের গল্প সবার মনে চিরদিন বেঁচে থাকবে।