রাজ্যের খবর

স্বাস্থ্যকর ভেবে বিষ খাচ্ছেন না তো? হলুদ কলায় ভয়াবহ রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা

পুষ্টিকর ফল হিসেবে পরিচিত কলাতেও মেশানো হচ্ছে বিপজ্জনক রাসায়নিক

Truth of Bengal: রাজ্যে স্বাস্থ্যকর খাবারের আড়ালে সাধারণ মানুষের পেটে ছড়াচ্ছে বিষ। স্বাস্থ্য ও খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের সাম্প্রতিক টানা অভিযানে রাজ্যের একাধিক নামীদামি রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে ফলের বাজারে যে ছবি সামনে এসেছে, তা এক কথায় অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এমনকি পুষ্টিকর ফল হিসেবে পরিচিত কলাতেও মেশানো হচ্ছে বিপজ্জনক রাসায়নিক।

সম্প্রতি হুগলির তারকেশ্বরের বৈদ্যপুরের চৌমাথা এলাকায় অভিযান চালান খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। সেখানকার একাধিক কলা ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বাজেয়াপ্ত করা হয় প্রচুর পরিমাণে বিষাক্ত রাসায়নিক। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গেছে, নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে একটি বড় গামলায় জলের সাথে ক্ষতিকর কীটনাশক ও রাসায়নিক মিশিয়ে তাতে কাঁচা কলা ডুবিয়ে রাখা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কলা পেকে আকর্ষণীয় হলুদ রঙ ধারণ করছে, যা খালি চোখে চেনা প্রায় অসম্ভব। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কলা পাকানোর জন্য নির্দিষ্ট মাত্রায় ইথানিল ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও তা অমান্য করে অতিরিক্ত মুনাফার আশায় বেআইনি রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, এসব কেমিক্যাল পেটে গেলে পেটে যন্ত্রণা ও বমির মতো সাময়িক কষ্টের পাশাপাশি কোলন ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। তাই অতিরিক্ত উজ্জ্বল বা নিখুঁত হলুদ রঙের কলা কেনা থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, খাদ্যের গুণমান বজায় রাখতে রাজ্য জুড়ে প্রায় আড়াই হাজারেরও বেশি দোকান, হোটেল ও রেস্তোরাঁয় হানা দিয়েছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে ফ্রিজে রাখা পচা মাংস, ছত্রাক ধরা আলু ও বেবিকর্ন, পচা ছানা দিয়ে তৈরি মিষ্টি এবং খাবারে বিষাক্ত রঙের অবাধ ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। এমনকি পার্ক স্ট্রিটের করিমস কিংবা ডন জিওভানির মতো নামীদামি রেস্তোরাঁও খাবারের মানের পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হয়েছে। তবে এই অভিযান তালিকায় পাস করেছে মোক্যাম্বো ও আর্সেলানের মতো কিছু প্রাচীন প্রতিষ্ঠান। কামালগাজি, সোনারপুর, বহরমপুর থেকে শুরু করে আলিপুরদুয়ার পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে যে সমস্ত দোকান বা রেস্তোরাঁ পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে, সেগুলির অনেককেই ইতিমধ্যে সিল করে দেওয়া হয়েছে। গড়িয়াহাট বাজারের ফ্রোজেন মাংসের নমুনাও স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকদের চিন্তা বাড়িয়েছে। রাজ্যজুড়ে ধারাবাহিক এই অভিযানের পর সাধারণ মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যনিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।