বন্যাদুর্গতদের জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর! মৃতদের পরিবারকে দেওয়া হবে ৯ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য
সাংবাদিক বৈঠকে বন্যায় মৃতদের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য একাধিক আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী
Truth of Bengal: বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার আকাশপথে ঘাটাল, সবং ও আরামবাগের বিস্তীর্ণ এলাকা পরিদর্শন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হেলিকপ্টার থেকে প্লাবিত অঞ্চল ঘুরে দেখার পর সবং ও আরামবাগে পর্যালোচনা বৈঠক করেন তিনি। পরে সাংবাদিক বৈঠকে বন্যায় মৃতদের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য একাধিক আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু জানান, বন্যায় মৃত দু’জনের পরিবারকে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৫ লক্ষ এবং জেলা তহবিল থেকে আরও ৪ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, প্রতিটি পরিবার মোট ৯ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য পাবে। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলির জন্যও আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ৩,২০০টি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িকে ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি দুর্গত পরিবারগুলিকে পাঁচ দিনের রেশন সরবরাহ করা হবে। জলবন্দি বাড়িগুলিতে রেশন ও ২০ লিটার করে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় অর্থ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে বৃহস্পতিবার থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় শস্যবিমা যোজনার বিশেষ ক্যাম্প চালু করার কথা জানিয়েছেন শুভেন্দু। একইসঙ্গে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ব্লকে বর্তমানে প্রায় ১১ হাজার আবাসের কাজ চলছে এবং আরও ১৩ হাজার বাড়ি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। বন্যাপ্লাবিত এলাকায় সাপের কামড়ের ঘটনাও সামনে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ১০টি সাপের কামড়ের ঘটনা ঘটেছে। তবে প্রত্যেক রোগীই চিকিৎসার পর জীবিত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিন সবংয়ের পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা আকাশপথে ঘুরে দেখেন শুভেন্দু। ঘাটাল ও আরামবাগের প্লাবিত এলাকাগুলির পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে ত্রাণ, পুনর্বাসন এবং জল নামানোর কাজ নিয়েও আলোচনা করেন।
সবং সফরে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ওই এলাকায় এলেন। স্থানীয়দের বক্তব্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৮৬ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু বন্যার সময় সবংয়ে এসেছিলেন। এরপর আর কোনও মুখ্যমন্ত্রী সেখানে আসেননি বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। পূর্বতন সরকারকেও এদিন কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, গ্রামের মানুষের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক রয়েছে এবং সেই কারণেই দুর্গত মানুষের পাশে সরাসরি দাঁড়ানো তাঁর দায়িত্ব। অন্যদিকে, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়েও প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা সামনে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগেই মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের তরফে প্রায় সাড়ে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সেই জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।






