রাজ্যের খবর

‘কাউকে রেয়াত করা হবে না!’ দুর্গাপুরে নাবালকদের রক্তদান চক্র নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি অগ্নিমিত্রা পালের

এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী

Truth of Bengal: টাকার প্রলোভন দেখিয়ে নাবালক পড়ুয়াদের রক্তদান করানোর অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল দুর্গাপুরে। অভিযোগ, বয়স গোপন করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তিন নাবালকের শরীর থেকে রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। সরকারি নথিতে তাঁদের প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবেও দেখানো হয় বলে দাবি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সংশ্লিষ্ট স্কুলের প্রিন্সিপাল। দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি স্কুলের তিন পড়ুয়াকে রক্ত দিলে ৩০০ টাকা দেওয়া হবে বলে প্রলোভন দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় স্কুলটিরই এক প্রাক্তন পড়ুয়ার নাম সামনে এসেছে। বর্তমানে সে দুর্গাপুরের ভিড়িঙ্গি টিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র বলে জানা গিয়েছে।

অভিযোগ, ওই প্রাক্তন পড়ুয়াই তিন নাবালককে বিধাননগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁদের এক রোগীর আত্মীয় হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে রক্তদান করানো হয়। নাবালকদের প্রকৃত বয়স গোপন করে হাসপাতালের নথিতে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। ঘটনার কথা জানতে পেরেই নড়েচড়ে বসে স্কুল কর্তৃপক্ষ। পড়ুয়াদের অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে থানায় অভিযোগ জানান স্কুলের প্রিন্সিপাল দেবযানী বোস। তাঁর বক্তব্য, “বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। জানতে পেরেছি, এজেন্টের মাধ্যমে নাবালকদের শরীর থেকে রক্ত নেওয়া হচ্ছে।” এই অভিযোগ সামনে আসার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “পড়ুয়াদের ৩০০ টাকার লোভ দেখিয়ে রক্ত নেওয়া হচ্ছে। যতদূর জানি, প্রাপ্তবয়স্ক না হলে রক্তদান করা যায় না। শারীরিক অসুস্থতা থাকলেও রক্ত দেওয়া সম্ভব নয়।”

এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর কথায়, “এই চক্রের সঙ্গে যে বা যারা যুক্ত, কাউকে ছাড়া হবে না। এ ধরনের ঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।” আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার প্রণব কুমার জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। কারা নাবালকদের হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল, বয়স সংক্রান্ত নথি কীভাবে বদলানো হয়েছিল এবং হাসপাতালের ভিতরে কারও যোগসাজশ ছিল কি না—সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Related Articles