কলকাতা

সুরুচির পুজো কমিটি থেকে ছাঁটাই ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’, সম্পাদক হলেন বিজেপি বিধায়ক সৌরভ

প্রতি বছর জনপ্রিয়তার নিরিখে দর্শনার্থীদের প্রথম পছন্দের তালিকায় ওপরের দিকেই নাম থাকে নিউ আলিপুরের সুরুচি সংঘের।

Truth of Bengal: এ যেন নিজের ঘর থেকেই ‘ঘাড়ধাক্কা’। দক্ষিণ কলকাতার অতিপরিচিত ও বিখ্যাত দুর্গাপুজোর কমিটিতে ঘটেছে সেরকমই। সুরুচি সংঘের পুজো কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে। পুজো কমিটির প্রধান উপদেষ্টা পদে ছিলেন তিনি, তবে বিগত বেশ কিছু বছর ধরে সুরুচি সংঘের পুজো ‘অরূপ বিশ্বাসের পুজো’ বলেই বিখ্যাত। অরূপের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসও ছিলেন সুরুচির দুর্গাপুজো কমিটির সম্পাদক পদে, সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁকেও। নবগঠিত দুর্গাপুজো কমিটিতে সেই পদে এসেছেন দমদম উত্তরের বিধায়ক ও বিজেপি নেতা সৌরভ শিকদার।

প্রতি বছর জনপ্রিয়তার নিরিখে দর্শনার্থীদের প্রথম পছন্দের তালিকায় ওপরের দিকেই নাম থাকে নিউ আলিপুরের সুরুচি সংঘের। ছাব্বিশের ভোটের আগে পর্যন্ত অরূপ ও স্বরূপ অর্থাৎ ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর এই পুজো নিয়ে টানাপোড়েন কিছু সামনে আসেনি। কলকাতা এবং তার পার্শ্বস্থ অঞ্চলের অনেক দুর্গাপুজোই বিগত সরকারের জমানায় তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীদের পুজো বলে পরিচিত ছিল। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পরই সেই সব পুজো নিয়ে শুরু হয়ে যায় জল্পনা। তৃণমূলের অন্দরে ডামাডোলের বাতাবরণে সেই সব পুজো আদৌ কারা পরিচালনা করবেন তা নিয়েই উঠতে থাকে প্রশ্ন। এবার তার মধ্যেই সুরুচি সংঘের নতুন পুজো কমিটি থেকে মুছে দেওয়া হল ‘বিশ্বাস ভাই’-দের নাম।

এই মুহূর্তে অবশ্য সবদিক দিয়েই অস্বস্তিতে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’। একদিকে মেসিকাণ্ড নিয়ে এখনও প্রবল চাপে রয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। একাধিক বার পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। অরূপ আপাতত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল শিবিরের সঙ্গে ওঠাবসা করছেন। অন্যদিকে তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাস মূলত টলিপাড়ার ফিল্ম জগতের ফেডারেশনের নেতা ছিলেন, যে ফেডারেশনের কোনও অস্তিত্ব আপাতত নেই। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মারাত্মক অভিযোগে তিনি এখন শ্রীঘরে। স্বরূপ গ্রেফতার হওয়ার পরেই সুরুচি সংঘের ক্লাবঘরে আছড়ে পড়েছিল জনরোষ। এবার দুই ভাইয়ের নামই উধাও হয়ে গেল সুরুচির পুজো কমিটি থেকে।