ই-২০ পেট্রলে কমতে পারে মাইলেজ, তবে ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা বাড়ার দাবি কেন্দ্রের
শুক্রবার এ কথা স্বীকার করল কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক
Truth of Bengal: ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রল বা ই-২০ ব্যবহারের ফলে কিছু গাড়ির মাইলেজ ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। শুক্রবার এ কথা স্বীকার করল কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। তবে কেন্দ্রের দাবি, সামান্য মাইলেজ কমলেও এই জ্বালানি ব্যবহারের সামগ্রিক সুফল অনেক বেশি। ই-২০ গাড়ির পিক-আপ উন্নত করার পাশাপাশি ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা এবং অ্যাক্সিলারেশন আরও মসৃণ করতে পারে। দেশজুড়ে পেট্রলের সঙ্গে ইথানল মেশানো নিয়ে সম্প্রতি নানা প্রশ্ন উঠেছে। ই-২০ ব্যবহারে গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, মাইলেজ কতটা কমছে কিংবা পুরনো গাড়িতে এই জ্বালানি কতটা উপযোগী—তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বহু গাড়িচালক। এই পরিস্থিতিতে ইথানল মিশ্রিত পেট্রল নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে কেন্দ্র।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের বক্তব্য, ই-১০ কিংবা ইথানলবিহীন পেট্রলের তুলনায় ই-২০ উন্নত মানের জ্বালানি। দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা, গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা এবং দেশে পর্যাপ্ত ইথানল উৎপাদনের ব্যবস্থা করার পরেই এটি চালু করা হয়েছে। কেন্দ্র জানিয়েছে, ই-২০ ব্যবহারে কিছু গাড়ির জ্বালানি সাশ্রয়ের ক্ষমতা সামান্য কমতে পারে। তবে গাড়ির ধরন, ইঞ্জিনের নকশা এবং ই-২০ ব্যবহারের উপযোগিতার উপর মাইলেজের এই পরিবর্তন নির্ভর করবে। বিশেষ করে ই-২০ ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি গাড়িগুলিতে নেতিবাচক প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম হওয়ার কথা। মন্ত্রকের দাবি, ইথানল মেশানোর ফলে পেট্রলের অকটেন রেটিং বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ ইঞ্জিনের সিলিন্ডারে তৈরি হওয়া চাপ সামলানোর ক্ষমতা বাড়ে। এই জ্বালানি তুলনামূলকভাবে দ্রুত দহন হওয়ায় গাড়ির পিক-আপ উন্নত হয় এবং গতি বৃদ্ধির প্রক্রিয়াও আরও মসৃণ হতে পারে। একই সঙ্গে ই-২০ ব্যবহারে সামগ্রিক কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব বলেও জানিয়েছে কেন্দ্র।
ইথানল মিশ্রণ কর্মসূচি তাড়াহুড়ো করে বাস্তবায়ন করা হয়েছে—এই অভিযোগও খারিজ করেছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। কেন্দ্র জানিয়েছে, ২০০১ সালে দেশে প্রথম ইথানল মিশ্রণের পরীক্ষামূলক প্রকল্প শুরু হয়েছিল। ২০০৬ সালের মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৫ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রল চালু করা হয়। তবে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতীয় স্তরে ইথানল মিশ্রণের হার প্রায় দেড় শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ২০১৮ সালে জাতীয় জৈব-জ্বালানি নীতি কার্যকর হওয়ার পর দেশে ইথানল উৎপাদন এবং পেট্রলে তার মিশ্রণের হার দ্রুত বাড়তে থাকে। কেন্দ্রের দাবি, নির্ধারিত সময়ের আগেই ২০২২ সালে ১০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে ভারত। পরবর্তী সময়ে উৎপাদন পরিকাঠামোয় আরও বিনিয়োগের মাধ্যমে ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। ই-২০ চালুর আগে দেশের একাধিক গাড়ি নির্মাতা সংস্থার সঙ্গে আলোচনা এবং পরীক্ষা চালানো হয়েছিল বলেও জানিয়েছে মন্ত্রক। এ ক্ষেত্রে মারুতি সুজ়ুকি ও হিরো মোটোকর্পের পরীক্ষার উল্লেখ করেছে কেন্দ্র। মন্ত্রকের দাবি, ই-২০ ব্যবহৃত গাড়িগুলিতে জ্বালানির কারণে কোনও অস্বাভাবিক ক্ষয় বা যন্ত্রাংশের আয়ু কমে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।


