সোনারপুরে অভিষেকের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া মমতার, পাল্টা হিংসা বর্জনের ডাক শমীকের
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরব হলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
Truth of Bengal: সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হওয়া নজিরবিহীন হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরব হলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারকে সরাসরি নিশানা করে সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে লেখেন, ‘‘শাসকই আজ ঘাতকে পরিণত হয়েছে।’’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরেই সুর মিলিয়ে সোনারপুরের এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে এবং সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদব। জাতীয় রাজনীতির এই শীর্ষ দুই বিরোধী নেতাই বাংলার বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলার পাশাপাশি ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ না থাকা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন।
RULERS BECAME KILLERS- shame on you BJP https://t.co/DHNsnDAc9a
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) May 30, 2026
তৃণমূল সাংসদের উপর এই হামলার অভিযোগ নিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। রাজ্যের ডবল ইঞ্জিন সরকারকে আক্রমণ শানিয়ে তিনি লেখেন, ‘‘অভিষেকের উপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার প্রমাণ করল যে তারা বিদ্বেষপূর্ণ, নেতিবাচক এবং হিংসাত্মক রাজনীতি করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারে না।’’ এর পরেই আইনশৃঙ্খলা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অখিলেশ আরও যোগ করেন, ‘‘এমন একটা সংবেদনশীল ও উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলে পুলিশের অনুপস্থিতি আদতে এক বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের দিকেই স্পষ্ট ইঙ্গিত করে।’’
একইভাবে মোদি-শুভেন্দু সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গেও। নিজের এক্স পোস্টে তিনি লেখেন, ‘‘অভিষেকের উপর হওয়া এই মর্মান্তিক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।’’ বিরোধী নেতার নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘‘এক জন প্রথম সারির বিরোধী নেতার কর্মসূচিতে ইচ্ছাকৃত ভাবে পর্যাপ্ত পুলিশি সুরক্ষার অভাব রাখা বিজেপির প্রতিহিংসা ও নিপীড়নের রাজনীতির কথাই প্রমাণ করে দেয়।’’ কেন্দ্রীয় এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে খড়্গের স্পষ্ট আর্জি, সরকারকে অবশ্যই সমস্ত বিরোধী নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং এই ধরনের হামলা আটকানোর জন্য দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে। কারণ রাজনৈতিক মতপার্থক্য কখনই কোনও ধরনের সহিংসতার রূপ নিতে পারে না।
অন্য দিকে, সোনারপুরের এই ধুন্ধুমার কাণ্ড এবং অভিষেকের উপর হামলার ঘটনা নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছে বিজেপি-ও। রাজ্য রাজনীতিতে শান্তি বজায় রাখার বার্তা দিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সকলকে হিংসা বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে কর্মসূচিতে পুলিশের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে দায় এড়িয়ে তিনি বলেন, “পুলিশ কেন ঘটনাস্থলে ছিল না, সেটা তো আমি দলের প্রতিনিধি হিসেবে বলতে পারি না। সেটা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার ভালো বলতে পারবে।” এর পরেই পাল্টা সুর চড়িয়ে অতীত মনে করিয়ে দিয়ে শমীক দাবি করেন, শুভেন্দু অধিকারী যখন বিরোধী দলনেতা ছিলেন, তখন উত্তরবঙ্গে তাঁকে গাড়িতে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল। তৃণমূল সরকারের আমলের বেশ কিছু ‘উদাহরণ’ টেনে তাঁর সংযোজন, “তৃণমূল আমাদের কর্মীদের সঙ্গে যে অমানবিক অত্যাচার করেছে, আমরা সংযত ছিলাম বলেই আজ তৃণমূল অক্ষত আছে।” হামলার তীব্র নিন্দা ও পাল্টা রাজনৈতিক দোষারোপের জেরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে।





