ব্যয় সাশ্রয়ে নজির, সরকারি বাসে দুর্গাপুরে জেলা প্রশাসন—পর্যালোচনা বৈঠকে যোগ ঊর্ধ্বতন কর্তাদের
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত উন্নয়ন পর্যালোচনা বৈঠকে যোগ দিতে ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকরা সরকারি গাড়ির বদলে বাসে করে দুর্গাপুরে রওনা দেন।
Truth of Bengal: সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দিতে এবার ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিল পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত উন্নয়ন পর্যালোচনা বৈঠকে যোগ দিতে ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকরা সরকারি গাড়ির বদলে বাসে করে দুর্গাপুরে রওনা দেন।
দুর্গাপুর সিটি সেন্টারের সৃজনী অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং বীরভূম—এই পাঁচ জেলার প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
জ্বালানি সাশ্রয়ের নির্দেশ মেনে সিদ্ধান্ত
পুরুলিয়ার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুধীর কোন্থাম জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-এর জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান এবং রাজ্য সরকারের সরকারি যানবাহন ব্যবহার কমানোর নির্দেশিকাকে অনুসরণ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “সরকারি নির্দেশ মেনে ব্যয় কমানো এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দিতেই আমরা বাসে করে দুর্গাপুরে যাচ্ছি।”
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল প্রায় ৯টা ৪৫ মিনিট নাগাদ জেলা প্রশাসনিক সদর দফতর থেকে দুটি বাসে করে কর্মকর্তারা দুর্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হন। এই দলে ছিলেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, মহকুমা শাসক এবং বিভিন্ন ব্লকের বিডিওরা।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও গাড়ির ব্যবহার কমানো হয় বলে জানা গিয়েছে। ফলে পুরো সফরে সরকারি যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
প্রশাসনিক মহলের মতে, এই উদ্যোগ শুধুমাত্র ব্যয় কমানোর নয়, বরং সরকারি ব্যবস্থাপনায় “মিতব্যয়িতা ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের” একটি উদাহরণ তৈরি করা। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা পৌঁছবে বলে মনে করছে জেলা প্রশাসন।
একই সঙ্গে, উন্নয়ন পর্যালোচনা বৈঠককে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক সমন্বয় ও মাঠ পর্যায়ের কাজ আরও গতিশীল করার লক্ষ্যও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকদের বাসে সফর রাজ্য প্রশাসনিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই এই পদক্ষেপকে “নজিরবিহীন” বলে অভিহিত করেছেন, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য জেলাতেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলে মত প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের।
দুর্গাপুরের বৈঠকে জেলার উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে।






