কলকাতাবিনোদন

“ডিভোর্সের পরেও ভালো বন্ধু থাকা যায়”, সায়নীকে কটাক্ষ করে প্রাক্তন স্ত্রীকে পাশে নিয়ে ফেসবুক লাইভে জীতু!

রাত ২টোর সময় ফেসবুকে লাইভে এসে প্রাক্তন স্ত্রী নবনীতার সঙ্গে একই ফ্রেমে ধরা দিলেন জীতু কমল।

Truth of Bengal: টলিউডের সেলেবপাড়ায় ২০২৪ সালের অন্যতম বড় চর্চার বিষয় ছিল জীতু কমল ও নবনীতা দাসের বিবাহবিচ্ছেদ। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিচ্ছেদের ঘোষণার পর কম কাদা ছোড়াছুড়ি ও ফিসফাস হয়নি। এমনকি জীতুর সঙ্গে এক নামী নায়িকার বন্ধুত্ব নিয়েও আঙুল তোলা হয়েছিল। কিন্তু আড়াই বছর পর, ২০২৬ সালের ১৬ মে, শুক্রবার গভীর রাতে এক অপ্রত্যাশিত মোড় দেখল নেটপাড়া। রাত ২টোর সময় ফেসবুকে লাইভে এসে প্রাক্তন স্ত্রী নবনীতার সঙ্গে একই ফ্রেমে ধরা দিলেন জীতু কমল। আইসক্রিম হাতে দুজনকে পুরোনো মেজাজে খুনসুঁটি করতে দেখে যেখানে অনুরাগীরা ভাঙা সংসার জোড়া লাগার স্বপ্ন দেখছেন, সেখানেই প্রশ্ন উঠছে— এই মাঝরাতের মিলনের নেপথ্যে কি আসলে যাদবপুরের তারকা সাংসদ সায়নী ঘোষ?

ঘটনার সূত্রপাত সায়নী ঘোষের একটি ভার্চুয়াল মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি এক বাকবিতণ্ডার মাঝে সায়নী অভিযোগ তোলেন, “বিরাটির ঘটনার পর আপনার প্রাক্তন স্ত্রী আলাদা করে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। হয়তো আপনার করা কিছু কুকর্ম সংক্রান্ত বিষয় আমাকে অবগত করার জন্যই… এখন মনে হচ্ছে ওঁর ফোনটা তুললে বেশি ভালো হত।” সায়নীর এই ‘কুকর্ম সংক্রান্ত’ বিস্ফোরক দাবির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আসরে নামেন জীতু। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে এবং সায়নীর দাবিকে ভুল প্রমাণ করতেই প্রাক্তন স্ত্রী নবনীতাকে পাশে নিয়ে সোজা পৌঁছে যান কেন্দুয়া শান্তি সংঘের মণ্ডপের সামনে, যেখানে অতীতে সায়নীর মুখের আদলে দুর্গাপ্রতিমা তৈরি হয়েছিল।

সেখানে দাঁড়িয়ে সায়নী ঘোষকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে ‘অপরাজিত’ খ্যাত অভিনেতা বলেন, “ঘোষ মহাশয়া দাবি করেছেন, আমি নাকি নবনীতার সঙ্গে দিনের পর দিন কুকর্ম করেছি! বাঙালি রাজনীতিবিদদের মধ্যে এই নোংরা ট্রেন্ড রয়েছে যে কেউ ডিভোর্স করলেই কাদা ছেটায়। কিন্তু আমরা সমাজকে দেখিয়ে দেব যে, ডিভোর্স হওয়ার পরেও আজীবন খুব ভালো বন্ধু হয়ে থাকা যায়।” পাশাপাশি কেন্দুয়া শান্তি সংঘের পুজোয় সায়নীর প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুললে পাশে থাকা নবনীতাও প্রাক্তনের সুরে সুর মিলিয়ে বলেন, “এই পুজো সার্বজনীন, কারও একার নয়।” নবনীতার উপস্থিতি ও মন্তব্যেই স্পষ্ট যে, তিনি স্রেফ প্রাক্তনের গায়ে লাগা দাগ মুছতেই মাঝরাতে ছুটে এসেছিলেন।

২০১৯ সালে সাতপাকে বাঁধা পড়েছিলেন জীতু ও নবনীতা। ‘অপরাজিত’ ছবিতে সত্যজিৎ রায়ের চরিত্রে অভিনয় করে জীতুর সাফল্য পাওয়ার পরেই তাঁদের দাম্পত্যে চিড় ধরে এবং ২০২৪ সালে আইনি বিচ্ছেদ হয়। দীর্ঘ তিন বছর পর তাঁদের এভাবে একফ্রেমে হাসিমুখে দেখে অনুরাগীদের মনে নতুন আশার আলো। তবে নেটপাড়ার একাংশের রসিকতা— জীতু-নবনীতার ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগানোর ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে ‘ভিলেন’ সায়নী ঘোষই কি তবে অনুঘটকের কাজ করলেন?