কলকাতা

গণনায় কারচুপির অভিযোগ ‘মনগড়া’! ডিইও-র রিপোর্টে ক্লিনচিট কমিশনকে

সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখেই ফল ঘোষণা করা হয়েছে

Truth of Bengal: ভোটগণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে খোদ নির্বাচন কমিশনের নিশানায় বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুর কেন্দ্রের গণনা নিয়ে তৃণমূলনেত্রীর তোলা সমস্ত অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘মনগড়া’ বলে খারিজ করে দিল কমিশন। মঙ্গলবার কলকাতা দক্ষিণের জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও) এই বিষয়ে একটি বিশদ রিপোর্ট জমা দিয়েছেন, যেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখেই ফল ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার ভবানীপুর কেন্দ্রে টানটান উত্তেজনার পর বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়েই তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশন যোগসাজশ করে গণনায় কারচুপি করেছে। মঙ্গলবারও তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে সরব হয়ে দাবি করেন, গণনাকেন্দ্রে ৩-৪ রাউন্ডের পর থেকেই তৃণমূল কর্মীদের ওপর অত্যাচার করা হয়েছে, ১৭-সি ফর্ম কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে শারীরিকভাবে হেনস্থা করে বের করে দেওয়া হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডিইও-র রিপোর্টে বলা হয়েছে, গণনাকেন্দ্রের সিসিটিভি বন্ধ থাকা বা কাউকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার মতো যে ঘটনাগুলোর কথা বলা হচ্ছে, তার কোনো বাস্তব প্রমাণ নেই। কমিশনের দাবি, আইন এবং বিধি মেনেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তৃণমূলনেত্রীর করা অভিযোগগুলো কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তথ্যপ্রমাণহীন বলেই মনে করছে কমিশন।

উল্লেখ্য, নিজের গড় হিসেবে পরিচিত ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই হার ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় অঘটন। হারের ধাক্কা সামলানোর আগেই কমিশনের এই কড়া অবস্থান তৃণমূল শিবিরের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল। কমিশনের পাল্টা চ্যালেঞ্জের মুখে এখন ঘাসফুল শিবির পরবর্তী কী আইনি বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার।

Related Articles