দেশরাজ্যের খবর

গণনাকর্মী নিয়ে বড় ধাক্কা তৃণমূলের! সুপ্রিম কোর্টে খারিজ আর্জি

তবে, সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, এই গোটা প্রক্রিয়া চলাকালীন কমিশনের নিজস্ব নির্দেশিকা ‘অক্ষরে অক্ষরে’ পালন করতে হবে।

Truth of Bengal: গণনাকর্মী হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের করা আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে বহাল রইল নির্বাচন কমিশনের গত ১৩ এপ্রিল জারি করা নির্দেশিকা। শুক্রবার শীর্ষ আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে, গণনার কাজে কেন্দ্রীয় কর্মীদের অংশগ্রহণের পথ প্রশস্ত হলো।

তবে, সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, এই গোটা প্রক্রিয়া চলাকালীন কমিশনের নিজস্ব নির্দেশিকা ‘অক্ষরে অক্ষরে’ পালন করতে হবে। গণনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং কমিশনের গাইডলাইন মেনে চলার ওপর সর্বোচ্চ আদালত বিশেষ জোর দিয়েছে। তৃণমূলের আপত্তি থাকলেও, নির্বাচন কমিশনের পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্তই আপাতত কার্যকর থাকছে।

শনিবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বিশেষ বেঞ্চে ভোটগণনার দিন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল নির্বাচন কমিশনের গত ১৩ এপ্রিলের নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি আদালতে জানান যে, নির্বাচন কমিশন ১৩ এপ্রিল নির্দেশিকা পাঠালেও বিষয়টি ২৯ এপ্রিল প্রকাশ্যে আসে। সিব্বলের মূল প্রশ্ন ছিল, যখন প্রতিটি গণনা টেবিলে একজন করে কেন্দ্রীয় ‘মাইক্রো অবজার্ভার’ থাকছেনই, তখন নতুন করে আবার শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কর্মীদের দিয়ে গণনা করানোর প্রয়োজন কেন পড়ল? তাঁর অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রাজ্য সরকারি কর্মীদের প্রতি একপ্রকার অনাস্থা প্রকাশ করা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের এই একতরফা সিদ্ধান্ত অহেতুক ও বিভ্রান্তিকর।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী এই অভিযোগের পাল্টা যুক্তি দিয়ে জানান, ভোটগণনার ক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসারের হাতেই সর্বোচ্চ ক্ষমতা থাকে এবং তিনি নিজেই রাজ্য সরকারের ক্যাডারের আধিকারিক। কমিশন স্পষ্ট করে দেয় যে, গণনা প্রক্রিয়ায় প্রতিটি প্রার্থীর নিজস্ব কাউন্টিং এজেন্ট উপস্থিত থাকবেন, তাই গণনায় কারচুপির যে আশঙ্কা তৃণমূল প্রকাশ করছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং যুক্তিহীন।

উভয়পক্ষের সওয়াল-জওয়াব শোনার পর তৃণমূলের আর্জি সরাসরি খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সরকারি আধিকারিকদের মধ্যে কেন্দ্র বা রাজ্যের কোনো ভেদাভেদ করা উচিত নয়; তাঁরা সকলেই সরকারি কর্মী। তাই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকাকে কোনোভাবেই ‘বিধি বিরোধী’ বলে গণ্য করা যায় না। আদালতের এই রায়ের ফলে এটি নিশ্চিত হলো যে, আগামী ৪ মে রাজ্য বিধানসভার ২৯৪টি আসনের ভোটগণনা কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকদের কড়া নজরদারিতেই সম্পন্ন হবে।

Related Articles