রানিনগরে সিপিএম এজেন্টকে হুমকি ও প্রার্থীকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ, কাঠগড়ায় তৃণমূল
এমনকি এই ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে প্রার্থী রুহুল আমিনের বাড়িতে দেখা করতে গেলে সিপিএম প্রার্থী জামাল হোসেনকেও এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
Truth of Bengal: কল্যান বিশ্বাস, মুর্শিদাবাদ: ভোটের ফল প্রকাশের আগেই উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের রানিনগর। রানিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের নওদাপাড়া এলাকার ৪০ নম্বর বুথের সিপিএম এজেন্ট রুহুল আমিন শেখকে হেনস্থা এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। এমনকি এই ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে প্রার্থী রুহুল আমিনের বাড়িতে দেখা করতে গেলে সিপিএম প্রার্থী জামাল হোসেনকেও এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাতে পাড়ার একটি চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন রুহুল আমিন শেখ। অভিযোগ, সেই সময় লোচনপুর অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি আমিনুল ইসলাম সদলবলে সেখানে হাজির হন। রুহুল আমিনের দাবি, “তৃণমূলের লোকজন এসে আমাকে হেনস্থা করে এবং কারা আমাকে এজেন্ট বানিয়েছে তাদের নাম বলার জন্য চাপ দেয়। নাম না বললে মারধর করার হুমকি দিয়ে টানাহ্যাঁচড়া করা হয়। এমনকি স্কুলে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করা এবং ভোটের ফল প্রকাশের পর দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।”
এই ঘটনার পর রাতেই সিপিএমের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন ও মুর্শিদাবাদ জেলার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়। শুক্রবার সকালে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং আক্রান্ত এজেন্টের পাশে দাঁড়াতে নওদাপাড়ায় যান সিপিএম প্রার্থী জামাল হোসেন। অভিযোগ, জামাল হোসেন সেখানে পৌঁছলে তৃণমূল আশ্রিত বাহিনী পুনরায় সেখানে চড়াও হয় এবং কেন তিনি এজেন্টের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন সেই প্রশ্ন তুলে তাঁকে দ্রুত এলাকা ছাড়ার নিদান দেয়।
ঘটনা প্রসঙ্গে সিপিএমের মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা বলেন, “তৃণমূলের মাস্তান বাহিনীকে সরাসরি মদত দিচ্ছেন ইসলামপুর থানার ওসি। প্রমাণ লোপাট করতে তিনি নিজেই সিসিটিভি ফুটেজ সরিয়ে ফেলেছেন। আমরা জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে সময় চেয়েছি, আজ দুপুরে দেখা করে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে।”
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রানিনগরের তৃণমূল প্রার্থী সৌমিক হোসেন। তাঁর দাবি, “ভোট মিটে যাওয়ার পর সিপিএমের এজেন্টকে নিয়ে আমাদের মাথা ঘামানোর কোনও প্রয়োজন নেই। এগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ। নিশ্চিত পরাজয় জেনে এখন নাটক করে বাজার গরম করার চেষ্টা করছে সিপিএম।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।






