প্রচারে বড় ঝটকা বিজেপির! প্রার্থী বেরোতেই গ্রাম উজাড় করে তৃণমূলে যোগদান, বাঁকুড়ায় শোরগোল
উন্নয়নের বঞ্চনার অভিযোগ তুলে প্রায় ২৫০ জন ভোটার একযোগে নাম লেখালেন ঘাসফুল শিবিরে।
কৈলাস বিশ্বাস, বাঁকুড়া : নির্বাচনী মরশুমে বাঁকুড়ার সোনামুখীতে বড়সড় রাজনৈতিক নাটক। বিজেপি প্রার্থী প্রচার সেরে গ্রাম ছাড়তেই ঘটে গেল লঙ্কাকাণ্ড! উন্নয়নের বঞ্চনার অভিযোগ তুলে প্রায় ২৫০ জন ভোটার একযোগে নাম লেখালেন ঘাসফুল শিবিরে। ঘটনাটি ঘটেছে সোনামুখী বিধানসভার বড়চাতরা গ্রামে, যা নিয়ে বর্তমানে যুযুধান দুই শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল পিয়ারবেড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়চাতরা গ্রামে প্রচারে গিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী দিবাকর ঘরামী। তিনি গ্রাম থেকে বেরিয়ে যেতেই স্থানীয় এক তৃণমূল নেতাকে ডেকে গ্রামবাসীরা তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেন। শুধু সাধারণ ভোটাররাই নন, দলবদলু এই তালিকায় রয়েছেন গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ওই বুথের পরাজিত বিজেপি প্রার্থীও। গ্রামবাসীদের সাফ দাবি, “উন্নয়নের আশায় গতবার দিবাকর ঘরামীকে ভোট দিয়েছিলাম, কিন্তু জেতার পর ৫ বছর বিধায়কের দেখাই মেলেনি। তাই গ্রামের স্বার্থে দল বদল করলাম।”
তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বাঁকুড়ার মাটিতে বিজেপির ভাঁওতাবাজি আর চলবে না। গ্রামের মানুষের এই যোগদানই প্রমাণ করে মানুষ কার পাশে আছে। তৃণমূল নেতা প্রকাশ্যে বিজেপি প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, বড়চাতরা গ্রামে বিজেপির পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে।
অন্যদিকে, এই গোটা ঘটনাকে ‘সাজানো নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী দিবাকর ঘরামী। তাঁর পাল্টা দাবি, “পিয়ারবেড়া এলাকায় বিজেপির মিছিলে মানুষের ঢল দেখে তৃণমূল ভয় পেয়েছে। নিজেদের দলের লোকেদের হাতেই পতাকা ধরিয়ে যোগদানের নাটক সাজিয়েছে শাসকদল।” নির্বাচনের মুখে এই গণ-দলবদল সোনামুখীর ভোটের অঙ্কে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।






