বাঘের হানা রুখতে এআই প্রযুক্তিতে ভরসা বন দফতরের
এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা বন দফতর।
Truth Of Bengal: বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন। জলে জঙ্গলে ঘেরা সুন্দরবন বদ্বীপ অঞ্চল। কথায় বলে সুন্দরবনে, ‘জলে কুমির ডাঙায় বাঘ’। মধু সংগ্রহ করতে বা মাছ ধরতে গিয়ে যেমন বাঘের আক্রমণের শিকার হয় সুন্দরবনের গরিব মানুষ। তেমনই খাবারের সন্ধানে প্রায়সময় সুন্দরবনের গ্রামে হাজির হয় ‘দক্ষিণ রায়’।
সুন্দরবনের মানুষ বাঘ মামাকে দক্ষিণ রায় নামেই ডাকে৷ কখন বাঘ যেমন জ্যান্ত মানুষকে টেনে নিয়ে গেছে জঙ্গলে তেমনই অনেক সময় দেখা যায় সুন্দরবনের সাহসী বাসিন্দারা লাঠিসোটা হাতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ করছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারকে। এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা বন দফতর। এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নির্ভর ক্যামেরা চালিত স্মার্ট কাকতাড়ুয়া ব্যবহার করা হবে সুন্দরবনে বাঘে-মানুষে সংঘাত ঠেকাতে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রর নাম হল ANIDERS বা Animal Intrusion Detection and Repellent System।
সৌর বিদ্যুৎ চালিত স্মার্ট যন্ত্র লোকালয় যাতে বাঘ বা হিংস্র পশু ঢুকতে না পারে তা ঠিক করবে। সুন্দরবনের কুলতলি ব্লকের রায়দিঘি রেঞ্জের হেরোভাঙ্গা-০৯ বন কম্পার্টমেন্ট এলাকায় জঙ্গল লাগোয়া বাফার জোনে ৪টি এমন যন্ত্র বসানো হয়েছে। লোকালয়ের কাছাকাছি হিংস্র বন্য প্রাণী এলেই যন্ত্রর মধ্যে থাকা সেন্সর সক্রিয় হয়ে উঠবে। আলো বেরোবে। জোরে আওয়াজ বাজতে থাকবে। ১৮০ ডিগ্রি এলাকা জুড়ে ২৫-৩০ মিটার জায়গা হল প্রতিটি যন্ত্রর রেঞ্জ। এআই প্রযুক্তি নির্ভর ক্যামেরাও লাগানো হবে ছবি তোলার জন্য। সৌর বিদ্যুতে চলে বলে এই যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে বিদ্যুৎবিহীন গভীর জঙ্গলেও। আপাতত পাইলট প্রকল্প হিসাবে এই যন্ত্র ব্যবহার করা হবে। অত্যাধুনিক মোশন সেন্সিং প্রযুক্তি বন্যপ্রাণীর গতিবিধি শনাক্ত করতে পারে।
২০২২ সালের বাঘ গণনায় দেখা গিয়েছিল, ভারতীয় সুন্দরবনে আনুমানিক ১০১টি বাঘ রয়েছে — যার মধ্যে ৮০টি সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভে এবং বাকিগুলি দক্ষিণ ২৪ পরগনা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত বনে।





