সংসদে হাইভোল্টেজ ড্রামা! জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনছে তৃণমূল, প্রয়োজন ১০০ স্বাক্ষর!
শীর্ষ নেতৃত্ব সাংসদদের নির্দেশ দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বরখাস্তের প্রস্তাব পেশ করার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করতে
Truth of Bengal: দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট বা পদচ্যুতির প্রস্তাব আনার তোড়জোড় শুরু করল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার বিকেলে দিল্লির বুকে লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রের খবর, সেই বৈঠকেই শীর্ষ নেতৃত্ব সাংসদদের নির্দেশ দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বরখাস্তের প্রস্তাব পেশ করার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করতে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের মতো সাংবিধানিক পদের আধিকারিককে সরাতে গেলে সংসদে অন্তত ১০০ জন সাংসদের সমর্থিত স্বাক্ষর প্রয়োজন। বর্তমানে মৌসম বেনজির নূরের ইস্তফার পর লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে তৃণমূলের হাতে রয়েছে ৪১ জন সাংসদ। ফলে এই লক্ষ্য পূরণে সমমনোভাবাপন্ন বিরোধী দলগুলির ওপর নির্ভর করতে হবে জোড়াফুল শিবিরকে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এর পেছনে তৃণমূলের সুদূরপ্রসারী কৌশল রয়েছে। ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলির কাছে সই চাইতে গিয়ে তৃণমূল আসলে বিজেপির বিরুদ্ধে তাদের লড়াইয়ের মানসিকতা পরখ করে নিতে চাইছে। যারা সই করবে না, তাদের বিজেপি-বিরোধিতার সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি হবে তৃণমূলের সামনে। তৃণমূল আশাবাদী যে উত্তরপ্রদেশের অখিলেশ যাদব এবং বিহারের আরজেডি নেতৃত্বের পূর্ণ সমর্থন তারা পাবে। সম্প্রতি কলকাতায় অখিলেশ যাদব ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকের পর দুই দলের সখ্য আরও নিবিড় হয়েছে। পাশাপাশি তামিলনাড়ুর ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিনের সঙ্গেও মমতার সুসম্পর্ক রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রয়োজনীয় ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর জোগাড় করা অসম্ভব হবে না বলেই মনে করছে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল।
যদিও বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের বর্তমান আসন সংখ্যা অনুযায়ী এই প্রস্তাব সংসদে পাস হওয়া প্রায় অসম্ভব, তবুও তৃণমূল পিছিয়ে আসতে নারাজ। দলের লক্ষ্য হলো সংসদীয় রাজনীতির আঙিনায় বিজেপির স্বরূপ মানুষের সামনে উন্মোচিত করা। ভোটার তালিকা সংশোধনী বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে অন্য বিরোধী দলগুলি সেভাবে সরব না হলেও তৃণমূল ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরে আক্রান্তদের নিয়ে পৌঁছে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুকৌশলে অন্য দলগুলির সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে মঙ্গলবার এই প্রসঙ্গে সংযত মন্তব্য করেছেন। কংগ্রেস সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলিও বিভিন্ন সময়ে বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে বিজেপির শাখা সংগঠন বলে কটাক্ষ করেছে। সেই ক্ষোভকে পুঁজি করেই তৃণমূল কংগ্রেস এখন ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইছে। বিজেপি বিরোধিতার এই উচ্চগ্রামে শেষ পর্যন্ত কতগুলি দল তৃণমূলের পাশে দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার।






