Koodankulam: ভারত-রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারিত্বে নতুন মাত্রা, কুদানকুলাম প্রকল্পকে ‘ফ্ল্যাগশিপ’ ঘোষণা পুতিনের
প্রেসিডেন্ট পুতিন নিশ্চিত করেন যে, কুদানকুলামে রুশ প্রযুক্তিতে তৈরি ছয়টি VVER-1000 চুল্লির মধ্যে দুটি ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে।
Truth of Bengal: ভারতের দীর্ঘমেয়াদি শক্তি চাহিদা পূরণে রাশিয়া যে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে, তা আরও একবার স্পষ্ট হলো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কুদানকুলাম নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট (KKNPP)-কে ভারত-রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারিত্বের শক্তিস্তম্ভের ‘ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প’ হিসেবে তুলে ধরেন।তামিলনাড়ুর তিরুনেলভেলি জেলায় অবস্থিত কুদানকুলাম প্ল্যান্টটি বর্তমানে ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। প্রেসিডেন্ট পুতিন নিশ্চিত করেন যে, কুদানকুলামে রুশ প্রযুক্তিতে তৈরি ছয়টি VVER-1000 চুল্লির মধ্যে দুটি ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে। ইউনিট ১ ও ২, যা যথাক্রমে ২০১৪ এবং ২০১৭ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদনে শুরু করে, বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে ২,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন (Rosatom) সম্পূর্ণ সক্ষমতা অর্জনের জন্য তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এই প্রকল্পের সম্প্রসারণের কাজ বর্তমানে পুরোদমে চলছে। ইউনিট ৩, ৪, ৫ এবং ৬ বিভিন্ন নির্মাণ পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিটি চুল্লি আরও ১,০০০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ যোগ করবে, যার ফলে সম্পূর্ণ চালু হওয়ার পর KKNPP সাইটের মোট সক্ষমতা বেড়ে হবে ৬,০০০ মেগাওয়াট। এই সহযোগিতা শুধু সক্ষমতা বৃদ্ধি নয়, প্রযুক্তিগত অগ্রগতিরও ইঙ্গিত দেয়। Rosatom সম্প্রতি ইউনিট ৩-এর প্রাথমিক লোডিংয়ের জন্য প্রথম ব্যাচের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহের ঘোষণা করেছে, যা আসন্ন চুল্লিগুলির দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করবে। কেন্দ্রীয় সরকার ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ সক্ষমতা অর্জনের যে উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, কুদানকুলাম প্রকল্পের সফল ও সময়মতো সমাপ্তি সেই লক্ষ্য পূরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যৌথ বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, উভয় পক্ষ ভারতে দ্বিতীয় একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সাইটের জন্য VVER নকশার বিষয়ে প্রযুক্তিগত আলোচনা দ্রুত করতে সম্মত হয়েছে। এর পাশাপাশি, Small Modular Reactors (SMRs) সহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা অন্বেষণ করার বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারতের পারমাণবিক শক্তির ভবিষ্যৎ রূপরেখায় রাশিয়ার অপরিহার্য ভূমিকা আরও দৃঢ় হলো।


