মার্চের শেষেও দাপাবে কালবৈশাখী, কলকাতা-সহ উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির সতর্কতা
শুক্রবার ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে
Truth Of Bengal: আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী রাজ্যের দুই প্রান্তেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা আরও বাড়তে চলেছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলের ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পর আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মোট ১২টি জেলায় বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। মূলত বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের আধিক্য ও স্থানীয় বজ্রগর্ভ মেঘের সঞ্চারে এই অকাল বর্ষণ ও কালবৈশাখী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের ওপরের পাঁচটি জেলা অর্থাৎ দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে আগামী কয়েকদিন অধিকাংশ জায়গায় মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার এই জেলাগুলোর দু-এক জায়গায় ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। বিশেষ করে দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলায় শিলাবৃষ্টির ভ্রূকুটি রয়েছে। এছাড়া জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে সাত থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। শনিবারও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হবে না, বরং জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে শিলাবৃষ্টির পাশাপাশি ভারী বৃষ্টিপাত চলতে পারে। রবিবার থেকে বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমলেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া জারি থাকবে।
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতেও কালবৈশাখীর দাপট অব্যাহত থাকবে। শুক্রবার বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম এবং পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলায় এক-দুটি স্থানে শিলাবৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলোতেও ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শনিবারও দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সমস্ত জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া বজায় থাকবে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী ঝড়বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রার পারদ কিছুটা ওঠানামা করবে। বিকেলের দিকে আকাশ মেঘলা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝড়ের দাপট বাড়তে পারে। উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণ মানুষকে বজ্রপাতের সময় পাকা বাড়ির নিচে আশ্রয় নিতে এবং গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির নিচে না দাঁড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সমুদ্রে বর্তমানে কোনো বিশেষ সতর্কতা না থাকলেও স্থানীয় আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।






