রাজ্যের খবর

মিড-ডে মিলে ভাতের বদলে ফুচকা! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড় নেটপাড়া

ভিডিওর দৃশ্যে দেখা যায়, স্কুলের উঠোনে একজন ফুচকা বিক্রেতা দাঁড়িয়ে পড়ুয়াদের ফুচকা পরিবেশন করছেন।

Truth of Bengal: দেশজুড়ে চলতে থাকা এলপিজি সঙ্কটের আবহে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সেই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, একটি সরকারি স্কুলে নিয়মিত মধ্যাহ্নভোজের পরিবর্তে পড়ুয়াদের ফুচকা খাওয়ানো হচ্ছে। স্কুল প্রাঙ্গণের মধ্যেই দুপুরবেলা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা ছাত্রছাত্রীদের জনপ্রিয় এই রাস্তার খাবার পরিবেশন করতে দেখা যায়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি শেয়ার করেছেন নন্দিতা সরকার, যিনি ভদ্রকালী হাই স্কুলের কর্মী বলে জানা গিয়েছে। ভিডিওর দৃশ্যে দেখা যায়, স্কুলের উঠোনে একজন ফুচকা বিক্রেতা দাঁড়িয়ে পড়ুয়াদের ফুচকা পরিবেশন করছেন। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিটি শিশুকে পাঁচ থেকে ছয়টি করে ফুচকা দেওয়া হয়।

ভিডিওটি সামনে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। একাংশের মতে, বর্তমান এলপিজি সঙ্কটের পরিস্থিতিতে এই ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার একটি উপায় হতে পারে। তবে অন্য একটি বড় অংশের মানুষ এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, ফুচকা কোনওভাবেই পুষ্টিকর খাবারের বিকল্প হতে পারে না এবং মধ্যাহ্নভোজ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই হল শিশুদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে মাঝে মাঝে ফুচকা দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু নিয়মিত মধ্যাহ্নভোজের পরিবর্তে এটি পরিবেশন করা উচিত নয়। একজন নেটিজেন বাংলায় লিখেছেন, “অ্যাড্রেস দিন, অ্যাডমিশন নেব।” অন্য একজন মন্তব্য করেন, “অ্যাডমিশন নিতে কী কী ডকুমেন্ট লাগবে?” আবার কেউ লিখেছেন, “এটা কোন স্কুল? আমিও ভর্তি হতে চাই।” তবে আরেকজন নেটিজেনের মন্তব্য ছিল, “ফুচকা না খাইয়ে ফল খাওয়াতে পারতেন।”

এই ঘটনা এমন এক সময় সামনে এসেছে যখন সারা দেশজুড়ে এলপিজি সঙ্কট ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠছে। গ্যাস সিলিন্ডারের ঘাটতি এবং সরবরাহে বিলম্বের কারণে বহু পরিবার সমস্যার মুখে পড়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, অনেক পেয়িং গেস্ট হোটেল বাধ্য হয়ে তাদের মেনু কমিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে ছোট ব্যবসাগুলিও গ্যাস সিলিন্ডারের অভাব বা দেরিতে সরবরাহের কারণে চাপে পড়েছে। অনেকেই দাবি করছেন, রান্নার জ্বালানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় বিভিন্ন জায়গায় মানুষ অস্থায়ী বিকল্প ব্যবস্থার উপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনলাইন মন্তব্যে কেউ কেউ ইঙ্গিত করেছেন, এই পরিস্থিতির প্রভাব এখন স্কুলের রান্নাঘরেও পড়তে শুরু করেছে।

Related Articles