লক্ষাধিক টাকা ভর্তি ব্যাগ কুড়িয়ে থানায় জমা, সামসেরগঞ্জে ৯ বছরের মেহেদি হাসানের সততায় মুগ্ধ সবাই
ছোট্ট এই শিশুর এমন সততা দেখে পুলিশও বিস্মিত হয়ে যায়।
কল্যান বিশ্বাস, মুর্শিদাবাদঃ মুর্শিদাবাদ জেলার সামসেরগঞ্জ এলাকায় মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত গড়ে দিল মাত্র ৯ বছরের এক শিশু। লক্ষাধিক টাকা ভর্তি একটি ব্যাগ কুড়িয়ে পেয়েও লোভ না করে তা সরাসরি থানায় জমা দিল ধুলিয়ান হিজলতলার ছোট্ট ছেলে মেহেদি হাসান। তার এই সততা ও মানবিকতা এলাকাজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। জানা গেছে, মেহেদি হাসান ধুলিয়ান পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের হিজলতলা এলাকার বাসিন্দা। সে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। মঙ্গলবার দুপুরে নাগাদ বাড়ি থেকে কাছাকাছি একটি জনপ্রিয় মিষ্টির দোকান ‘সুইট হোম’-এ মিষ্টি কিনতে বের হয়েছিল। সেই সময় ধুলিয়ানের সংহতি উদ্যান পার্কের সামনে রাস্তায় একটি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে সে। কৌতূহলবশত ব্যাগটি খুলে দেখে মেহেদি। তখন সে বুঝতে পারে ব্যাগের ভিতরে রয়েছে অনেক টাকা। পরে জানা যায়, ওই ব্যাগে প্রায় ১ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা ছিল। এত বড় অঙ্কের টাকা পেয়েও একটুও লোভ না করে মেহেদি সঙ্গে সঙ্গে সামসেরগঞ্জ থানায় ছুটে যায় এবং পুরো বিষয়টি পুলিশকে জানায়। ছোট্ট এই শিশুর এমন সততা দেখে পুলিশও বিস্মিত হয়ে যায়।
সামসেরগঞ্জ থানার আইসি সুব্রত ঘোষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখেন। তিনি ব্যাগটি পরীক্ষা করে দেখেন যে এর ভিতরে টাকার সঙ্গে একটি ব্যাংকের পাসবইও রয়েছে। সেই পাসবইয়ের তথ্য দেখে ব্যাগের প্রকৃত মালিকের খোঁজ শুরু করা হয়। আইসি সুব্রত ঘোষ নিজেই পাসবইয়ে থাকা তথ্য অনুযায়ী ফোন করে ওই ব্যক্তিকে থানায় ডেকে পাঠান। পরে জানা যায়, ব্যাগটির প্রকৃত মালিক জাকির হোসেন, ফারাক্কার ব্রাহ্মণ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একটি বন্ধন ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বাড়ি ফিরছিলেন। অসাবধানতাবশত পথে কোথাও ব্যাগটি পড়ে যায়। তিনি জানান, বিড়ি শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি দেওয়ার জন্যই ওই টাকা তুলেছিলেন। হঠাৎ ব্যাগ হারিয়ে যাওয়ায় তিনি গভীর চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। পুলিশের উপস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত সেই ব্যাগটি টাকাসহ প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। নিজের হারিয়ে যাওয়া টাকা ফিরে পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন ওই ব্যক্তি এবং ছোট্ট মেহেদি হাসানের সততার প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, এমন মানবিক কাজের জন্য সামসেরগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে আইসি সুব্রত ঘোষ ছোট্ট মেহেদি হাসানকে একটি ক্যাডবেরি উপহার দিয়ে সম্মান জানান। তিনি বলেন, এত অল্প বয়সে মেহেদির এই সততা সত্যিই প্রশংসনীয় এবং সমাজের জন্য একটি বড় উদাহরণ।
এলাকার বাসিন্দারাও মেহেদির এই কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। অনেকেই বলেন, আজকের দিনে যেখানে বড় বড় মানুষও অনেক সময় লোভ সামলাতে পারেন না, সেখানে মাত্র ৯ বছরের একটি শিশু এমন সততার পরিচয় দিয়েছে, যা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। ছোট্ট মেহেদি হাসান প্রমাণ করে দিল—সততা ও সঠিক শিক্ষার শুরু হয় ছোটবেলা থেকেই। তার এই কাজ শুধু পরিবারেরই নয়, গোটা এলাকার গর্ব হয়ে উঠেছে।






