জুনিয়র ডাক্তারদের মানববন্ধনে ধুন্ধুমার, পুলিশকে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান আন্দোলনকারীদের
Protesters chant 'go back' slogans to junior doctors in human chain

Truth Of Bengal, Barsa Sahoo : আরজি কর হাসপাতালে অভয়ার মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে ধর্মতলায় মানব বন্ধন করেছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। এই মানববন্ধনে পুলিশের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ধর্মতলায় ডিসি সেন্ট্রালকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান আন্দোলনকারীরা এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের এই বাধা তাঁদের আন্দোলনের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করেছে। তাঁরা জানান, শান্তিপূর্ণভাবে মানব বন্ধন করতে চাইলেও পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলনকারীরা ডিসি সেন্ট্রালকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেন।
— TOB DIGITAL (@DigitalTob) October 15, 2024
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবি আদায়ে আরও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়েছেন এবং তাঁরা জানান, যতক্ষণ না তাঁদের দাবি পূরণ হচ্ছে, ততক্ষণ তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। পুলিশের এই আচরণের বিরুদ্ধে তাঁরা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও ভাবছেন।
এই ঘটনার ফলে ধর্মতলায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবি আদায়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং তাঁরা জানান, তাঁদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবেই চলবে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধর্মতলায় জুনিয়র ডাক্তারদের ডাকে মানববন্ধন চলাকালীন, শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবে প্রতিমা প্রদর্শন শেষে ফিরছিল লরি। পিছনে ছিল রাজ্যের মন্ত্রী তথা ক্লাবকর্তা সুজিত বসুর গাড়ি। সুজিতকে গাড়িতে দেখেই মানববন্ধনে দাঁড়ানো জনতা ক্ষোভ উগরে দেন। একসঙ্গে কয়েকশো লোক গাড়ির দিকে ধেয়ে যান।
সুজিত বসুর অভিযোগ, তাঁর গাড়িতে বোতলও ছোড়া হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ধর্মতলা মোড়ে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। যদিও সুজিতের গাড়ি থামেনি, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ ধরে গাড়ি নিয়ে সোজা এগিয়ে যান তিনি। চলন্ত গাড়ির পিছনের অংশে চড়-থাপ্পড় মারা হয়। এই ঘটনায় ধর্মতলায় উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সুজিত বসুর নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবিও উঠেছে।
এই ঘটনা নিয়ে সুজিত বলেন, ”গণতান্ত্রিক ভাবে আন্দোলন করার অধিকার সকলের রয়েছে। কিন্তু এটা কী ধরনের অসভ্যতা! গাড়িতে আক্রমণ করবে?” সুজিত আরও বলেন, ”ওদের থেকে আমাদের পুজোর লোক অনেক বেশি ছিল। ওখানে যদি পাল্টা হত, তা হলে কি ভাল হত! আমি চাইনি পুজোর মধ্যে ঘটনাটা বাড়তে দিতে।”
সুজিত চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরে সেখানে কলকাতা পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে ঘিরে ধরেও আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ দেখান। জনতার মধ্যে থেকে সমবেতভাবে ওঠে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। এদিকে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, মানববন্ধন হচ্ছে দেখেও সুজিতের গাড়ি প্রায় মানুষের ঘাড়ের উপর দিয়েই যাচ্ছিল। হালতুর বাসিন্দা নবনীতা দাস জুনিয়র ডাক্তারদের ডাকা মানববন্ধনে যোগ দিতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ”মন্ত্রী বলে কি মানুষকে গাড়ি চাপা দিয়ে মেরে দেবেন! ওঁর গাড়ি যে ভাবে গিয়েছে তাতে এক সুতোর এ দিক-ও দিক হলেই আমার পা পিষে যেত।”






