মুখ্যমন্ত্রীর ৬টি চিঠি, উত্তর নেই কেন? প্রশ্নে নীরব নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার
অভিযোগের কোনওটিরই সরাসরি জবাব দেননি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার
Truth of Bengal: এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছে রাজ্যের শাসকদল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা বারবার তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে সেই সব অভিযোগের কোনওটিরই সরাসরি জবাব দেননি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ছয়টি চিঠি লিখেছিলেন। কিন্তু তার একটিরও উত্তর পাওয়া যায়নি। এই বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রকাশ্যে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন তিনি।পরে এসআইআর প্রক্রিয়ায় মৃতদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সেই বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে জ্ঞানেশ কুমার দুর্ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। বৈঠক শেষে কমিশনারের আচরণ নিয়ে প্রকাশ্যেই বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ফিরহাদ হাকিম এবং রাজীব কুমার। বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ, বৈঠকে কমিশনার একাই কথা বলেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এমনকি সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও আপত্তি তোলেন বলে দাবি করেন তিনি।চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের আরও অভিযোগ, বৈঠকের সময় তাঁকে ‘ডোন্ট শাউট’ বলা হয়, যা একজন মহিলার প্রতি অসম্মানজনক আচরণ বলেই দাবি করেন তিনি।তবে এই সমস্ত অভিযোগ নিয়েও এতদিন নীরব ছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপিত হলে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দেন। তাঁর কথায়, “ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে সকলের বাক স্বাধীনতা রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলি বিভিন্ন মন্তব্য করতেই পারে। সেই সব রাজনৈতিক মন্তব্যের জবাব দেওয়া আমাদের কাজ নয়।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দেন, রাজনৈতিক অভিযোগকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ নির্বাচন কমিশন।





