হাজার টাকার টিকিট কাটেও মেসিকে এক মুহূর্তের জন্যও দেখতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ দর্শকরা
সল্টলেক স্টেডিয়ামে নামার পর নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে চারপাশ থেকে এত ঘিরে রাখেন যে গ্যালারি থেকে দর্শকরা এক মুহূর্তের জন্যও তাঁকে দেখতে পাননি।
Truth Of Bengal: যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসির উপস্থিতি নিয়ে সোমবার চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। বহু দর্শক হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটেও এক মুহূর্তের জন্যও প্রিয় তারকাকে দেখতে না পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয় যে গ্যালারিতে বোতল ছোড়া এবং হোর্ডিং ভাঙার ঘটনা ঘটেছে।
এইদিন মেসি মাঠে মাত্র ২৩ মিনিট অবস্থান করেন। সল্টলেক স্টেডিয়ামে নামার পর নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে চারপাশ থেকে এত ঘিরে রাখেন যে গ্যালারি থেকে দর্শকরা এক মুহূর্তের জন্যও তাঁকে দেখতে পাননি। নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যেও মেসিকে নিয়ে সেলফি তোলার হিড়িক দেখা যায়। গাড়ি থেকে নামার পরই পরিস্থিতি জটিল হয়ে যায়। মন্ত্রী, কর্তা ও আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের ভিড়ে প্রায় ঘিরে পড়েন আর্জেন্টিনার এই তারকা। দর্শকরা উন্মাদ হয়ে ওঠেন এবং প্রায় ২০ মিনিট ধরে তাঁকে গ্যালারিতে দেখা যায়নি।
এই সময় দর্শকদের মধ্যে অসন্তোষ শুরু হয়। “We Want Messi” স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম। টিকিট কেটে আসা দর্শকদের ভরসা ছিলেন স্টেডিয়ামের তিনটি জায়ান্ট স্ক্রিন, কিন্তু সেখানেও স্পষ্টভাবে Messi দেখা যাচ্ছিল না। মোহনবাগান ও ডায়মন্ড হারবারের প্রাক্তন ফুটবলারদের সঙ্গে পরিচয়পর্ব চলাকালীনও ভিড় কমেনি। ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্তকে বারবার মাইক্রোফোনে পরিস্থিতি সামাল দিতে অনুরোধ করতে হয়, তবুও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
১১টা ৫২ মিনিট নাগাদ মেসিকে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়। এরপরই দর্শকদের ক্ষোভ চরমে পৌঁছায়। মোটা অঙ্কের টিকিট কেটে আসা অনেক দর্শক প্রিয় তারকাকে না দেখতে পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। গ্যালারির চেয়ার ভাঙা হয়, ফেন্সিং ভেঙে কয়েকশো মানুষ মাঠে ঢুকে পড়েন। পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়েনি, ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়।
শেষ পর্যন্ত, মেসিকে এক ঝলক দেখার জন্য ভরা যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। প্রত্যাশামতো তারকাকে দেখতে না পারায় দর্শকদের হতাশা এবং ক্ষোভ মিলেমিশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।






