আনন্দপুরে মৃত্যুমিছিল! মৃত বেড়ে ৮, এখনও নিখোঁজ বহু
আগুনের তীব্রতার কারণে লোহার বিম ও কংক্রিট দিয়ে তৈরি ওই ভবন এখন কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
Truth Of Bengal: আনন্দপুরের মোমো কারখানায় ক্রমেই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আট জনে, কিন্তু সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, এই আশঙ্কাই করা হচ্ছে। এলাকার মানুষের মধ্যে এখন শুধু শোক ও আর্তনাদের শব্দ। নিখোঁজদের পরিবার-স্বজনরা রাতভর ধ্বংসস্তূপের আশপাশে অপেক্ষা করেছেন প্রিয়জনের কোনো খোঁজ পাওয়ার আশায়। রাতেও ধ্বংসস্তূপের বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে এবং দমকল কর্মীরা তা নিভানোর কাজ করেছেন। মঙ্গলবার সকালেও ধ্বংসস্তূপের ভেতর কিছু জায়গায় ধিকিধিকি আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। বড় ধরনের আগুন লাগলে সাধারণত এমন ‘পকেট ফায়ার’ থাকে, তেমনটাই জানিয়েছেন দমকল কর্মীরা।
সোমবার ওই কারখানার ধ্বংসস্তূপ থেকে একাধিক মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আগুনের তীব্রতার কারণে লোহার বিম ও কংক্রিট দিয়ে তৈরি ওই ভবন এখন কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলো এতটাই ঝলসে গিয়েছে যে শনাক্ত করা যাচ্ছে না। তাদের পরিচয় জানার জন্য ডিএনএ টেস্ট করা হবে বলে জানা গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, ধ্বংসস্তূপের কংক্রিট ভাঙার কাজ শুরু করা হবে। মঙ্গলবার সকাল থেকে ‘কুলিং প্রসেস’ শুরু হয়েছে। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এলে ফরেনসিক পরীক্ষা শুরু হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এখন পর্যন্ত নিখোঁজের সংখ্যা ১২ জন, তবে তা আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা অমূলক নয় বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। কীভাবে আগুন লাগল, অগ্নিনির্বাপণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না—এসব বিষয়ের তদন্ত হবে, এমনটাই প্রশাসন সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে।
ঘটনাস্থলটি নরেন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত আনন্দপুরের নাজিরাবাদ রোডে অবস্থিত একটি মোমো তৈরির কারখানা। রবিবার রাত দেড়টা নাগাদ ভয়াবহ আগুনের কবলে পড়ে ওই কারখানা, তখন ভিতরে মোমো তৈরির কাজ চলছিল এবং পাশেই ডেকোরেটর্সের কাজ চলছিল। প্রায় ৩০ জন শ্রমিক ছিলেন সেখানে। আগুন লাগতেই প্রথমে কয়েকজন বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন, কিন্তু বাকিরা আটকে পড়েন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে প্রায় ২০ জন শ্রমিক আটকে পড়েন, নিখোঁজদের মধ্যে নিরাপত্তারক্ষীও রয়েছেন। দমকলের ১৫টি ইঞ্জিন দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে আগুন আংশিক নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসতেই একের পর এক দেহ উদ্ধার হতে থাকে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে রাত থেকেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান নিখোঁজদের পরিবার। একের পর এক দেহ বের হতে দেখে তাদের বুক ভেঙে কান্না থামানো কঠিন হয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে যান মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, স্থানীয় সাংসদ সায়নী ঘোষ ও বিধায়ক ফিরদৌসি বেগম। নিখোঁজ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসও।


