কলকাতা

প্রার্থী-অসন্তোষে দিশেহারা বিজেপি, অমিত শাহ শহর ছাড়তেই বিক্ষোভ সল্টলেক অফিসে

চন্দননগরে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে ফের দীপাঞ্জন গুহর নাম ঘোষণার পর থেকেই ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

Truth of Bengal: ভোটের মুখে বিজেপির অন্দরমহলে ক্রমশ বাড়ছে অস্থিরতা। একের পর এক প্রার্থী তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হচ্ছে বিক্ষোভ, যা এখন কার্যত বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের কাছে। চন্দননগরকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিস্ফোরণ ঘটেছে এই অসন্তোষ।

শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতা ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরের সামনে জড়ো হন ক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকরা। তাদের মূল দাবি, চন্দননগরে বহিরাগত প্রার্থী বদল করে স্থানীয় কাউকে টিকিট দিতে হবে। বিক্ষোভকারীরা সরাসরি স্লোগান তোলেন, “বহিরাগত প্রার্থী চাই না।”

চন্দননগরে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে ফের দীপাঞ্জন গুহর নাম ঘোষণার পর থেকেই ক্ষোভ বাড়তে থাকে। ২০২১ সালের নির্বাচনে তিনি তৃণমূল প্রার্থী ইন্দ্রনীল সেনের কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন। সেই পরাজিত প্রার্থীকে আবার টিকিট দেওয়ায় দলীয় কর্মীদের একাংশে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

এর আগেও চন্দননগরে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন বিজেপি কর্মীরা। এমনকি জিটি রোডে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদও করা হয়। পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হলেও ক্ষোভ যে থামেনি, তা শনিবারের সল্টলেক বিক্ষোভেই স্পষ্ট।

শুধু চন্দননগর নয়, রাজ্যের একাধিক বিধানসভা কেন্দ্র, কোচবিহার, উদয়নরায়ণপুর, বলাগড়, বেলেঘাটা- সব জায়গাতেই প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ সামনে আসছে। এখনও ১৯টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা বাকি, তার আগেই দলের অন্দরে এই ‘বিদ্রোহ’ বিজেপির নির্বাচনী প্রস্তুতিকে বড় ধাক্কা দিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে বিজেপিকে এখন শুধু বিরোধী দলের বিরুদ্ধে নয়, নিজেদের অন্দরের ক্ষোভ সামলাতেও লড়াই করতে হচ্ছে। যা ভোটের আগে বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে পদ্ম শিবিরের জন্য।

Related Articles