বিচারাধীনদের ভোটারদের ভাগ্য নিয়ে দায় ঠেলাঠেলি – সুতোয় ঝুলছে ৬০ লক্ষের ভাগ্য
আগামী রবিবার কলকাতায় পৌঁছচ্ছে কমিশনের ফুল বেঞ্চ।
Truth Of Bengal: ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার সময় যত এগোচ্ছে ততই অনিশ্চিত হচ্ছে বিচারাধীন ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারের ভোটভাগ্য। দীর্ঘ সময় ধরে শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাধিকারের স্বপক্ষে নথি জমা দেওয়ার পর নির্বাচন কর্মীদের ভুল অথবা প্রযুক্তিগত ত্রুটি কিংবা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরিকল্পনা বদলের দরুন যে জটিলতা তৈরি হয় তারই খেসারত দিতে বিচারাধীন তকমা জুটেছে ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ ভোটারের।
আগামী রবিবার কলকাতায় পৌঁছচ্ছে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। রীতি অনুযায়ী তার কয়েকদিন পরেই ভোট ঘোষণা হওয়ার কথা। কিন্তু ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ ভোটারদের ভোট ভাগ্য এখনও অনিশ্চয়তার সুতোয় ঝুলছে। এই বিশাল সংখ্যার ভোটারদের দায়িত্ব কে নেবে তা নিয়েই এখন ‘ঠেলাঠেলির সংসার’। রাজ্যের সিইও দপ্তর তথা নির্বাচন কমিশন আঙুল দেখাচ্ছে বিচারব্যবস্থার দিকে। সময়ের অভাব এবং উপযুক্ত পরিকাঠামো না পাওয়ায় বেশ কিছু সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বিচারকদের।
বিচারব্যবস্থার এই অভিযোগের আঙুল রাজ্য প্রশাসনের দিকে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলো এই বিচারাধীন ভোটারদের ভোটভাগ্যের মীমাংসা না করে ভোট ঘোষণা করা যাবে না বলে দাবি তুলেছে। ধরণায় বসেছেন স্বয়ং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এই পরিস্থিতিতে কমিশন দাবি জানিয়েছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই বিবেচনাধীন ভোটারদের বিষয়ে মীমাংসা করা হবে সুপ্রিম কোর্টের কাছে এই অঙ্গীকার করে সম্মতি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট ও রাজ্য প্রশাসন। সেক্ষেত্রে বিবেচনাধীন ভোটারদের বিষয়ে দায়িত্ব যে তাঁদেরই সেই ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই দিয়ে রেখেছে কমিশনের কর্তারাই। আর এই পারস্পরিক দোষারোপের দায় ঠেলাঠেলির খেলায় আখেড়ে বহু লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার যে বিপন্ন তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
আগামী ১০ মার্চ বিচারাধীন ভোটার সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টে শুনানি রয়েছে। যদি রাজ্য প্রশাসন বা রাজনৈতিক দলগুলো সেখানে বিচারাধীন ভোটারদের ভোটভাগ্য মীমাংসা করার পর নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার দাবি করে তা মেনেও নিতে পারে নির্বাচন কমিশন বলে ইঙ্গিত মিলেছে সিইও দপ্তরের পক্ষ থেকে। অর্থাৎ, বঙ্গের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে ফের নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা এখনও রয়েই গিয়েছে।
আদালত সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিচারাধীন ভোটারদের ভাগ্য নির্ধারণে নিযুক্ত হয়েছেন রাজ্যের ৫০৫ জন বিচারক। দশ দিন গড়িয়ে যাওয়ার পরও যাঁরা সাড়ে ৬ লক্ষের কাছাকাছি বিচারাধীন ভোটারের নথি-নিষপত্তি করতে পেরেছেন। মোট বিচারাধীন ভোটারের বিচারে যা প্রায় ১০%। যদিও এই নিষ্পত্তির মাধ্যমে তাঁরা ভোটাধিকার পাবেন কিনা তা নিশ্চিত নয়। এনিয়ে আদালত অথবা রাজ্য প্রশাসন এমনকি সিইও দপ্তর বা কমিশনের কাছেও কোন সদুত্তর মেলেনি। ঝাড়খন্ড ওড়িশা থেকে আরও ২০০ বিচারক এই কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছেন। এই ভিন রাজ্যের বিচারকদের থাকার ব্যবস্থা ও পরিষেবার জটিলতাও যেমন রয়েছে তেমনি এদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে লগ ইন আইডি দিয়ে কাজ শুরু করাতেও বেশ কিছুটা সময় পেরিয়ে যাবে।
মূলত আটটি জেলার জন্য অতিরিক্ত ভাবে এই ভিন্ন রাজ্যের বিচারকদের নিযুক্ত করা হবে বলে খবর। এই আটটি জেলা হল বীরভূম, হুগলি, নদীয়া, হাওড়া, দুই ২৪ পরগনা ও দুই বর্ধমান।
যদিও বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো হলেও বিচারাধীন ভোটাররা কতটা সুবিচার পাবেন তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন ” বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে কোনও ভুলভ্রান্তি হয়েছে কিন তার জন্য রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে। আমরা বিষয়টা খতিয়ে দেখব।” অবশ্য সিইও-র এই বক্তব্যে বিচারাধীনদের আস্থা ফিরবে কি ? সন্দেহ দূর হয়নি এখনও।





