আমেরিকার ওপর থেকে হাত তুলছে সৌদি-আমিরশাহি? যুদ্ধের কোপে বিনিয়োগ ফেরানোর পথে মধ্যপ্রাচ্য
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলির শীর্ষ কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই অভ্যন্তরীণ আলোচনা শুরু করেছেন।
Truth Of Bengal: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে উপসাগরীয় অর্থনীতিতে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং কাতার-সহ বড় বড় উপসাগরীয় দেশগুলি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি ও বিভিন্ন চুক্তি পুনর্বিবেচনা করছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলির শীর্ষ কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই অভ্যন্তরীণ আলোচনা শুরু করেছেন। তারা খতিয়ে দেখছেন, বিদ্যমান চুক্তিগুলিতে ‘ফোর্স মেজর’ ধারা প্রয়োগ করা সম্ভব কি না। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলিও নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে যাতে যুদ্ধের কারণে অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ কিছুটা কমানো যায়।
একজন উপসাগরীয় কর্মকর্তা ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানান, “কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ ইতিমধ্যেই অভ্যন্তরীণভাবে মূল্যায়ন শুরু করেছে—বর্তমান চুক্তিগুলিতে ফোর্স মেজর ধারা প্রয়োগ করা যায় কি না এবং বর্তমান ও ভবিষ্যতের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতিগুলিও পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।”
এই পর্যালোচনার ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্র প্রভাবিত হতে পারে। বিদেশি সরকার বা সংস্থার কাছে দেওয়া বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া স্পনসরশিপ, বহুজাতিক সংস্থার সঙ্গে চুক্তি এমনকি কিছু সম্পদ বিক্রির বিষয়ও এর আওতায় আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের সংঘাত চলতে থাকায় উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। জ্বালানি থেকে আয় কমে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়, কিন্তু সংঘাতের সময় একাধিক তেলবাহী জাহাজ হামলার মুখে পড়ায় চলাচল অনেকটাই কমে গেছে।
এছাড়াও পর্যটন ও বিমান চলাচল খাতেও বড় ধাক্কা লেগেছে। ইরানের হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি, দূতাবাস এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা খাতে বাড়তি ব্যয় এবং জ্বালানি রপ্তানি কমে যাওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলির সরকারি বাজেটেও চাপ বেড়েছে। একটি আঞ্চলিক সরকারের উপদেষ্টা জানান, বিদেশে বিনিয়োগ পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনা ইতিমধ্যেই হোয়াইট হাউসের নজরে এসেছে।
উল্লেখ্য, উপসাগরীয় দেশগুলির হাতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সার্বভৌম সম্পদ তহবিল রয়েছে। গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর উপসাগর সফরের পর যুক্তরাষ্ট্রে শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এই দেশগুলি। যদি সেই বিনিয়োগের গতি কমে যায়, তবে যুদ্ধ শেষ করতে কূটনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটার জন্য ওয়াশিংটনের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে উপসাগরীয় ব্যবসায়ী মহলের মধ্যেও যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। দুবাই-ভিত্তিক ধনকুবের খালাফ আহমেদ আল হাবতুর সম্প্রতি এই যুদ্ধের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত প্রশ্নের মুখে পড়েছে এবং এই সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলিকে এমন এক বিপদের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে, যা তারা নিজেরা বেছে নেয়নি।






