রহস্যের কেন্দ্রবিন্দুতে সেই ‘বাবা’! তিনজনের মৃত্যুর আগে গাড়িতে ঠিক কী ঘটেছিল?
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার দুপুর ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে পীরাগঢ়ী উড়ালপুলে একটি গাড়ি দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে আছে বলে খবর আসে।
Truth Of Bengal: দিল্লির পীরাগঢ়ী এলাকায় উড়ালপুলের উপর একটি গাড়িতে তিনজনের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিসিটিভি ফুটেজে ‘বাবা’র বেশে এক ব্যক্তিকে ওই গাড়িতে দেখা গেছে। এরপরই গাড়ির ভিতর থেকে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এখন ওই ‘বাবা’র খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। তদন্তকারীরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন, এই রহস্যময় ব্যক্তির ওই ঘটনায় কী ভূমিকা রয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার দুপুর ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে পীরাগঢ়ী উড়ালপুলে একটি গাড়ি দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে আছে বলে খবর আসে। গাড়ির ভিতরে তিনজন থাকা সত্ত্বেও কেউ কোনও সাড়া শব্দ পাচ্ছিল না। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ির দরজা খুললে দেখা যায় সকল যাত্রীই মৃত। গাড়ির দরজা লক ছিল এবং প্রায় ৫০ মিনিট ধরে গাড়িটি উড়ালপুলে দাঁড়িয়ে ছিল। ব্যস্ত এই এলাকায় গাড়ি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পরও কেন কেউ সন্দেহ করেনি—এই প্রশ্নও তদন্তকারীদের ভাবাচ্ছে।
সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হলে দেখা যায় গাড়িতে তিনজন নয়, চারজন ছিলেন। চতুর্থ ব্যক্তি ‘বাবা’র সাজে ছিলেন। এখন তাঁর পরিচয় ও ওই ঘটনার সঙ্গে তাঁর যোগসাজশ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনজনের মৃত্যুর সাথে তাঁর কোনও সম্পর্ক আছে কি না, সেটাও যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশ বলেছে, মৃতদের মধ্যে দু’জন পুরুষ এবং একজন মহিলা। তাঁদের নাম রণধীর (৭৬), শিবনরেশ (৪৭) এবং লক্ষ্মী দেবী (৪০)। রণধীর ও শিবনরেশ বাপরোলা এলাকার বাসিন্দা, আর লক্ষ্মী দেবী জহাঙ্গীরপুরীর বাসিন্দা।
গাড়ির ভিতর থেকে মদের বোতল ও গ্লাস উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক সন্দেহ, বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে। শিবনরেশ ও লক্ষ্মীর গলায় বমির চিহ্নও পাওয়া গেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন গাড়ির সামনের আসনে রণধীরের পাশাপাশি আরও একজন ছিলেন, যাকেই ‘বাবা’র বেশে দেখা গেছে। রণধীর ও শিবনরেশ একে অপরের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং জমি-বাড়ি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে তাদের পরিবারে কেউই লক্ষ্মীর সঙ্গে তাদের সম্পর্কের কথা জানতেন না। সূত্রের দাবি, লক্ষ্মীর দু’টি বিয়ে রয়েছে—একজন স্বামী বিহারে, অন্যজন দিল্লিতে। কিন্তু লক্ষ্মীর সঙ্গে রণধীর ও শিবনরেশের সম্পর্ক কীভাবে গড়ে উঠেছিল, তা তদন্তকারীদের কাছে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে।






