Operation Sindoor: ‘দরকার হলে ফের ঢুকব পাকিস্তানে’, অপারেশন সিঁদুর নিয়ে সেনাপ্রধানের হুঙ্কার
ভারতের অখণ্ডতায় কেউ আঘাত হানার চেষ্টা করলে তার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।
Truth of Bengal: অপারেশন সিঁদুরে শত্রুপক্ষকে চরম শিক্ষা দিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রয়োজনে সীমান্ত পার হয়ে পাকিস্তানে ঢুকে মরণ কামড় বসাতেও পুরোপুরি তৈরি ছিল। মঙ্গলবার নতুন বছরের প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে এমনই কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান যে, অপারেশন সিঁদুর এখনও শেষ হয়ে যায়নি। ভারতের অখণ্ডতায় কেউ আঘাত হানার চেষ্টা করলে তার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।
গত বছরের মে মাসে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানের রণকৌশল সম্পর্কে সেনাপ্রধান জানান, ৭ মে ভোররাতে শুরু হওয়া এই অপারেশনটি প্রাথমিকভাবে মাত্র ২২ মিনিটের জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তা ১০ মে পর্যন্ত স্থায়ী হয়, যা চলে টানা ৮৮ ঘণ্টা। সেনাপ্রধানের মতে, জল, স্থল এবং নৌসেনার মধ্যে সমন্বয়ের এক অনন্য উদাহরণ ছিল এই অভিযান। পরিস্থিতি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিন বাহিনীকেই সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল।
অপারেশন সিঁদুরের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি জানান, ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে লস্করের ছায়া সংগঠন টিআরএফ-এর হাতে ২৬ জন নিরস্ত্র মানুষের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বদলা নিতেই এই প্রত্যাঘাত চালায় ভারত। ভারতীয় সেনার অভিযানে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গিঘাঁটি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়। পাল্টায় পাকিস্তান ভারতের জনবহুল এলাকা ও সেনাঘাঁটিতে হামলা চালানোর চেষ্টা করলে ভারত আরও কঠোর প্রত্যাঘাত শুরু করে। এতে পাকিস্তানের অন্তত ১১টি বায়ুসেনা ঘাঁটি বিধ্বস্ত হয় এবং ১০০ জনেরও বেশি জঙ্গি ও প্রায় ৩৫-৪০ জন পাক সেনা নিহত হয়।
সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেন, এই অভিযানে কোনো ত্রুটি ছিল না এবং অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে শত্রুপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শেষে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে বারবার সংঘর্ষবিরতির আর্জি জানানোর পরেই নয়াদিল্লি এই অভিযান থামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে তিনি পুনর্বার মনে করিয়ে দেন যে, ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না এবং আগামীতেও যেকোনো বিদেশি ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সেনাবাহিনী সদা প্রস্তুত।






