অকাল প্রয়াণ নাকি চরম গাফিলতি? ‘জাস্টিস ফর রাহুল’ দাবিতে এবার রাজপথে টলিপাড়া!
৩০০০ সদস্যের ফোরামে মিছিলে মাত্র ৪৭ জন? রাহুলের বিচার চাইতে গিয়ে কেন দু’ভাগ হল টলিউড?
Truth of Bengal: তালসারিতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শ্যুটিং চলাকালীন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুতে টলিউডজুড়ে শোকের পাশাপাশি দানা বাঁধছে একগুচ্ছ অমীমাংসিত প্রশ্ন। সমুদ্রের জলে শ্যুটিং করার সময় ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। অভিযোগ উঠছে, লাইফ জ্যাকেট বা লাইফ বোটের মতো ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই উত্তাল সমুদ্রে শ্যুটিং চলছিল।
স্থানীয়দের মতে, তালসারির সমুদ্র শান্ত মনে হলেও সেখানে বিপজ্জনক চোরাবালি রয়েছে। এই ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও কেন উপকূলরক্ষী বাহিনী বা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির আগাম অনুমতি নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে তদন্তকারীরাও বিস্মিত। পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা সীমান্তের এই সংবেদনশীল এলাকায় পুলিশি নজরদারি এড়িয়ে কীভাবে কাজ চলছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অভিনেতার অনুগামীরা।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক। স্থানীয় নুলিয়াদের সাহায্য না নিয়ে শ্যুটিং ইউনিটের সদস্যরাই রাহুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান বলে জানা গিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানেও বড়সড় গরমিল ধরা পড়েছে। অভিনেতার গাড়ি চালকের দাবি অনুযায়ী, রাহুল দীর্ঘক্ষণ জলের নিচে ছিলেন। অন্যদিকে, প্রযোজক সংস্থার দাবি, মাত্র সাত থেকে আট মিনিটের মধ্যে তাঁকে জল থেকে তোলা সম্ভব হয়েছিল। এই সময়ের ব্যবধানটুকুই এখন তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেরই ধারণা, প্রাথমিক নিরাপত্তা বা প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী থাকলে হয়তো এই অকাল প্রয়াণ এড়ানো যেত।
এদিকে, রাহুলের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে শনিবার টলিপাড়ায় একটি সংহতি মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। তবে এই মিছিল ঘিরেই শিল্পী মহলে বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আর্টিস্ট ফোরামের সদস্য সংখ্যা প্রায় তিন হাজার হলেও, এই প্রতিবাদী মিছিলে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মাত্র ৪৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তালিকায় শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, পায়েল সরকার, কিউ, ঋদ্ধি সেন, গৌরব চক্রবর্তী, সৃজিত মুখোপাধ্যায় এবং অরিন্দম শীলদের মতো নাম থাকলেও বড় অংশের নীরবতা নিয়ে টলিউডের অন্দরেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে। কেন বেশিরভাগ সদস্য এই লড়াই থেকে পিছিয়ে গেলেন, তা নিয়ে বিতর্ক এখন তুঙ্গে।
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবির হাত ধরে রাতারাতি তারকা হয়ে উঠেছিলেন রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই ছবির সহ-অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারের সঙ্গে তাঁর পর্দার রসায়ন পরবর্তীকালে বাস্তবেও পরিণতি পায়। তাঁদের একমাত্র সন্তান সহজের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা ভেবে এই মৃত্যু রহস্যের কিনারা হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে চলচ্চিত্র মহল। আপাতত শনিবারের মিছিল এবং পুলিশি তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন রাহুলের অগুনতি ভক্ত।





