অন্নপূর্ণার টাকা না পেয়ে ক্ষোভ মহিলাদের, দলেরই নেতাদের বাড়ি ঘেরাওয়ের ডাক বিজেপি বিধায়ক অসীমের
নিজের দলের শক্তিপ্রমুখদের বাড়ি ঘেরাওয়ের ডাক! হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়কের ভিডিও বার্তায় চরম অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির
Truth of Bengal: রাজ্যে পালাবদলের পর প্রতিটি সাধারণ পরিবারকে আর্থিক সামাজিক সুরক্ষা দিতে শহর ও গ্রামের মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতিশ্রুতি মতো ৩ হাজার টাকা করে পৌঁছে দিচ্ছে নতুন সরকার। কিন্তু সেই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ (Annapurna Bhandar)-এর সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বহু জায়গায় স্বজনপোষণ এবং প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। এবার এই নিয়ে নিজের দলেরই স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিস্ফোরক অবস্থান নিলেন নদিয়ার হরিণঘাটার বর্ষীয়ান বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার।
নিজের দলের মণ্ডল সভাপতি ও শক্তিপ্রমুখদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে ৩ দিনের কড়া সময়সীমা বেঁধে দিয়ে অসীম সরকার হুমকি দিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে যোগ্য মহিলারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা না পেলে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ যেন গিয়ে সরাসরি বিজেপির স্থানীয় নেতাদের বাড়ি ঘেরাও করেন! সম্প্রতি এই সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত ভিডিও বার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নদীয়া জেলা-সহ রাজ্য রাজনীতি ও বিজেপির অন্দরমহলে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, নদীয়ার একাধিক গ্রামীণ ও পুর এলাকায় হাজার হাজার যোগ্য মহিলা সরকারি পোর্টালে আবেদন জানানো সত্ত্বেও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন না। টাকা না পেয়ে ইতিপূর্বেই বিডিও অফিসের সামনে এবং রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওবার্তায় বিধায়ক অসীম সরকার স্পষ্ট জানান, “অনেক যোগ্য মহিলা আমাকে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানিয়েছেন যে তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আমি ৩ দিনের সময় বেঁধে দিচ্ছি। এই সময়ের মধ্যে স্থানীয় মণ্ডল সভাপতি বা শক্তিপ্রমুখরা সমস্যার সমাধান না করলে, যে সব মহিলারা টাকা পাচ্ছেন না, তাঁরা গিয়ে সংশ্লিষ্ট দলীয় নেতাদের বাড়ি ঘেরাও করুন।”
ভিডিওটিতে তিনি নিজের আপ্ত সহায়কের মোবাইল নম্বরও প্রকাশ্যে দেন এবং ক্ষুব্ধ মহিলাদের সরাসরি সেখানে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। ভিডিওটি যে তাঁরই এবং বক্তব্যটিও তাঁর নিজের, তা সংবাদমাধ্যমের কাছে অকপটে স্বীকারও করে নিয়েছেন বিধায়ক। অসীম সরকারের এই বেনজির আল্টিমেটাম ও নিজের দলের নেতাদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বার্তার ফলে বিজেপি স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে ব্যাপক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।






