সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর থানা থেকে বেরোলেন অভিষেক! কী বললেন সাংবাদিকদের সামনে?
ক্যামাক স্ট্রিটের তৃণমূল দপ্তরের বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে পুলিশ যে তৎপরতা দেখিয়েছে, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় সেই সক্রিয়তা দেখা যায়নি
Truth of Bengal: ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার পর শেক্সপিয়র সরণি থানা থেকে বেরিয়েই বিজেপি ও পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশের তলবে থানায় হাজিরা দিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর বাইরে এসে তাঁর অভিযোগ, ক্যামাক স্ট্রিটের তৃণমূল দপ্তরের বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে পুলিশ যে তৎপরতা দেখিয়েছে, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় সেই সক্রিয়তা দেখা যায়নি। বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে অভিষেকের মন্তব্য, “ওঁদের যা ক্ষমতা আছে, করুক।” ক্যামাক স্ট্রিটের দলীয় দপ্তর থেকে বিলবোর্ড খোলার সময় কলকাতা পুলিশ ও পুরসভার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অভিষেককে তলব করা হয়েছিল। সেই নোটিস মেনেই মঙ্গলবার দুপুরে শেক্সপিয়র সরণি থানায় পৌঁছন তিনি। সেখানে পুলিশ আধিকারিকরা তাঁকে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
থানা থেকে বেরিয়ে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে হওয়া ফায়ার অডিট নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের দপ্তর ঘিরে পুলিশ-প্রশাসন যে তৎপরতা দেখিয়েছে, একই ধরনের সক্রিয়তা যদি এক মাস আগে অন্য জায়গায় দেখানো হত, তাহলে তারাপীঠ কিংবা মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা এড়ানো যেত। এত মানুষের প্রাণও হারাতে হত না বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে ভোটের আগে আলিপুর প্রশাসনিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও সামনে আনেন তৃণমূল নেতা। তাঁর প্রশ্ন, কেন সেই সমস্ত ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা যায়নি।
ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনার দিন কোনও শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবি করেন অভিষেক। পাল্টা তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের সিঁড়ি দিয়ে টেনে নামানো হয়েছিল। এমনকি পুলিশি হেফাজতেও তাঁদের হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। গোটা ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেই দাবি অভিষেকের। বিজেপিকে নিশানা করে তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক লড়াইয়ে তৃণমূলের মোকাবিলা করতে না পেরেই পুলিশ-প্রশাসনকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “ভয় পাচ্ছে, রাজনৈতিকভাবে লড়তে পারছে না। তাই এসব করছে।” ক্যামাক স্ট্রিটের বিলবোর্ড-কাণ্ড ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক এবং আইনি বিতর্কের কেন্দ্রে। এবার সেই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ এবং তার পর তাঁর পাল্টা আক্রমণে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল।

