হামলার ৫ দিন পরেও থমথমে যাদবপুর! কর্তৃপক্ষের বৈঠক বয়কট করল এবিভিপি
বৈঠকে উপাচার্য, সহ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, শিক্ষকদের একাংশ, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সদস্য এবং এবিভিপির প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল
Truth of Bengal: বুধবার গভীর রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত হামলার অভিযোগের পর প্রায় পাঁচ দিন কেটে গেলেও এখনও পুরোপুরি শান্ত হয়নি ক্যাম্পাস। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করে। কিন্তু সেই বৈঠকও শেষ পর্যন্ত বিতর্কমুক্ত থাকল না। বৈঠকে উপাচার্য, সহ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, শিক্ষকদের একাংশ, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সদস্য এবং এবিভিপির প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে বৈঠক শুরু হতে দেরি হওয়া এবং প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আপত্তির কারণে এবিভিপি ও দক্ষিণপন্থী শিক্ষক সংগঠনের সদস্যেরা বৈঠক বয়কট করেন।
এবিভিপির যাদবপুর ইউনিটের সভাপতি নিখিল দাসের দাবি, বিকেল ৩টেয় বৈঠক শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ৩টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত তা শুরু হয়নি। পাশাপাশি সব বিভাগের ছাত্র প্রতিনিধিদের ডাকার কথা থাকলেও বামপন্থী সংগঠনের সদস্যদের উপস্থিতিই বেশি ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর উপাচার্যকে ই-মেল করে বৈঠক থেকে বেরিয়ে যায় এবিভিপি। শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘও বৈঠক ত্যাগ করে। অন্যদিকে, বৈঠকে বামপন্থী ছাত্রদের তরফে একাধিক দাবি তোলা হয়। বিশেষ করে গণিত বিভাগের অধ্যাপক বুদ্ধদেব সাউকে ঘিরেই প্রধান আপত্তি তাদের। বাম ছাত্র সংগঠনের দাবি, তদন্ত চলাকালীন তাঁকে স্টুডেন্ট গ্রিভ্যান্স রিড্রেসাল সেলের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরাতে হবে। শুধু তাই নয়, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে ক্লাস নেওয়া থেকেও বিরত রাখতে হবে। তদন্ত কমিটি পুনর্গঠনের দাবিও তুলেছে বাম ছাত্ররা। তাদের দাবি, ওই কমিটিতে ছাত্র প্রতিনিধি রাখতে হবে। পাশাপাশি বুধবার রাতের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে যাঁদের দেখা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে শিক্ষক বা পড়ুয়া—যেই থাকুন না কেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাসপেন্ড করতে হবে।
তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের স্নাতকোত্তর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী এষণা সেন জানিয়েছেন, চার দফা দাবি মানা না হলে উপাচার্য, সহ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার এবং বৈঠকে উপস্থিত শিক্ষকদের ঘেরাও করা হতে পারে। বামপন্থী ছাত্রদের চারটি মূল দাবি হল—বুদ্ধদেব সাউকে স্টুডেন্ট গ্রিভ্যান্স রিড্রেসাল সেলের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো, তদন্ত চলাকালীন তাঁকে ক্লাস নিতে না দেওয়া, ছাত্র প্রতিনিধি রেখে তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন এবং সিসিটিভি ফুটেজে চিহ্নিত সংশ্লিষ্টদের সাসপেন্ড করা। এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ‘বাংলার সচেতন নাগরিক ও প্রবুদ্ধ সমাজ’-এর ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিলও হয়। সেখানে উপস্থিত এবিভিপির রাজ্য সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য হুঁশিয়ারি দেন, সাত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ না হলে যাদবপুর থানা অভিযান করা হবে। এবিভিপির দাবি, অধ্যাপক রাজেশ্বর সিংহকেও তদন্তের আওতায় আনতে হবে এবং সংগঠনের সদস্যদের উপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের অপসারণের দাবিও ওঠে।
অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের যাদবপুর ইউনিটের সম্পাদক ভাস্কর সরদার জানিয়েছেন, বর্তমান প্রশাসন যদি পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে উপাচার্যের সরে যাওয়া উচিত। এবিভিপির তরফে রেজিস্ট্রারের অপসারণ এবং উপাচার্য ও সহ-উপাচার্যের নৈতিক দায় নিয়ে পদত্যাগের দাবিও তোলা হয়েছে। ফলে শান্তি ফেরানোর উদ্দেশ্যে ডাকা বৈঠকেই দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি ও বয়কট যাদবপুরের অচলাবস্থা আরও জটিল করে তুলল।


