“তোর কাতুকুতুতেই গোল দিতে পারলাম…” অরূপকে খোঁচা সজলের
নিশানায় প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস
Truth of Bengal: বিশ্বকাপ জ্বরে বুঁদ ফুটবলপ্রেমীরা। রাত জেগে ম্যাচ দেখা, মেসির গোল নিয়ে উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে ফুটবল আবেগে ভাসছে গোটা বিশ্ব। আমেরিকার কানসাস স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকের পর উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছেন তাঁর অনুরাগীরা। তবে বাংলার রাজনীতিতে সেই হ্যাটট্রিক ঘিরেও শুরু হয়েছে খোঁচা-টিপ্পনী। নিশানায় প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। মেসির হ্যাটট্রিককে সামনে রেখে অরূপ বিশ্বাসকে কৌতুকের সুরে কটাক্ষ করলেন বিধায়ক সজল ঘোষ। বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “মেসি শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন, ওঁর মাসতুতো ভাইকে। তুই এত কাতুকুতু দিয়েছিলি বলেই আমি তিনটে গোল দিতে পারলাম। হ্যাটট্রিক করতে পারলাম।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
সজল ঘোষ আরও বলেন, “বাংলার সমস্ত মানুষ, বিশেষ করে যাঁরা রাজনীতি করেন না, যাঁরা রাত জেগে ফুটবল দেখেন, তাঁরা প্রত্যেকে চান অরূপ বিশ্বাস যেন বাড়ি না ফেরেন, তিনি যেন জেলে যান।” মেসি কাণ্ডে অরূপ বিশ্বাসের ভূমিকা নিয়ে যে ক্ষোভ এখনও জিইয়ে রয়েছে, সজলের মন্তব্যে সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এদিন অরূপ বিশ্বাসকে আক্রমণ করেন শিবপুরের বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষও। তাঁর কটাক্ষ, “মেসির মতো গুণী লোকেরা ভালো কাজে হ্যাটট্রিক করে। অরূপ বিশ্বাসের মতো পাপীরা অপরাধের হ্যাটট্রিক করে।” মেসির বিশ্বকাপ সাফল্যের সঙ্গে অরূপের মেসি কাণ্ডে জড়িয়ে পড়াকে মিলিয়ে বিরোধীদের এই আক্রমণ নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বর থেকে মেসি সফর ঘিরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। পালাবদলের পর মেসির ভারত সফরের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, মেসি সফরের জন্য প্রায় ৭০ হাজার টিকিট ছাপানো হয়েছিল। তার মধ্যে জোর করে ২২ হাজার টিকিট অরূপ বিশ্বাস নিজের দখলে নিয়েছিলেন এবং সেগুলি অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
শুধু টিকিট বিতর্ক নয়, মেসির নিরাপত্তা প্রোটোকল না মানার অভিযোগও উঠেছে অরূপের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, নির্ধারিত নিয়ম উপেক্ষা করে তিনি মেসির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একাধিকবার নোটিস পাঠায় পুলিশ। কিন্তু তিনবার নোটিস পাঠানো হলেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ। যদিও এই মামলায় ইতিমধ্যেই হাই কোর্ট থেকে রক্ষাকবচ পেয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। আগামী ১৭ অগস্ট পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। তবে তদন্তে তাঁকে সবরকম সহযোগিতা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশের পর অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী।





