কলকাতা

‘ম্যান মেড বন্যা’র তত্ত্ব অতীত, বর্ষার দুর্যোগ রুখতে এবার ডিভিসি-র সঙ্গে একযোগে কাজ করবে রাজ্য

শনিবার নিউটাউনে কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টরের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই বিষয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের নীতিকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি

Truth of Bengal: বর্ষা কিংবা পুজোর মুখে দক্ষিণবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলেই ‘দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন’ বা ডিভিসি (DVC)-র ওপর দায় চাপানোর চেনা রাজনৈতিক তরজা এবার বঙ্গে অতীত হতে চলেছে। অতীত ভুলে এবং কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের রাস্তায় না হেঁটে, এবার ডিভিসি-র সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমন্বয় রেখে কাজ করার স্পষ্ট বার্তা দিলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার নিউটাউনে কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টরের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই বিষয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের নীতিকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। শনিবার নিউটাউনে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে ‘স্বচ্ছ’ (Swachh) অ্যাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডিভিসি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বর্ষা আসলেই যেভাবে পূর্বতন সরকার ডিভিসিকে এককভাবে দায়ী করতো, তা যে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ছিল, তা আজ প্রমাণিত। সেই সংঘাতের পর্ব এবার অতীত হয়ে গিয়েছে।”

শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, আসন্ন বর্ষার মরশুমের কথা মাথায় রেখে এখন থেকেই আগাম পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। বন্যা বা জল জমার মতো দুর্যোগ রুখতে ইতিমধ্যে রাজ্যের সেচ দপ্তর, বিদ্যুৎ দপ্তর এবং ডিভিসি-র আধিকারিকদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দিনে সবকটি দপ্তর একযোগে কাজ করবে। তৃণমূল জমানায়, বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন, বর্ষায় দক্ষিণবঙ্গের হাওড়া, হুগলি, বর্ধমান বা মেদিনীপুরের একাংশ প্লাবিত হলেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং ডিভিসি-কে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হতো। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান অভিযোগ ছিল, দিনের পর দিন জলাধারগুলিতে ড্রেজিং (পলি পরিষ্কার) না করার ফলে জলধারণ ক্ষমতা কমে গিয়েছে। এর ওপর রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা বা আগাম বার্তা না দিয়েই ডিভিসি লক্ষ লক্ষ কিউসেক জল ছেড়ে দেয়, যার জেরে কৃত্রিম বন্যা তৈরি হয়।

এই পরিস্থিতিকে একাধিকবার ‘ম্যান মেড বন্যা’ বা মানুষের তৈরি বন্যা বলে আখ্যা দিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে কড়া চিঠিও পাঠিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও ডিভিসি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বারবার তথ্যপ্রমাণ দিয়ে জানানো হয়েছিল, জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত রাজ্য প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া হয়। রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বঙ্গে এখন ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। আর ক্ষমতার এই বদল আসতেই ডিভিসি-র সঙ্গে রাজ্যের দীর্ঘদিনের অম্ল-মধুর সম্পর্কে দাঁড়ি পড়ল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতের পথে না গিয়ে ডিভিসি-র মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে পাশে নিয়ে চলার এই সিদ্ধান্ত দক্ষিণবঙ্গের বন্যা নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারে। সমন্বয়ের মাধ্যমে জল ছাড়ার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা গেলে প্রতি বছর আমজনতার যে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হতো, তা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা করছে প্রশাসন।

Related Articles